ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রবাসে যেতে চান, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার ঘোষণা দিলো যে দেশ

২০২৫ অক্টোবর ১৭ ১৬:৫১:১৭

প্রবাসে যেতে চান, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার ঘোষণা দিলো যে দেশ

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলে গেল প্রবাসে কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত। ইরাকে কর্মী পাঠানো এবং অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ‘রেকর্ড অব ডিসকাশন’ (Record of Discussion) স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নিরাপদ অভিবাসনে জোর

দুই দিনব্যাপী আলোচনায় উভয় পক্ষ জোর দেন নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর। বৈঠকে প্রধানত তিনটি বড় বিষয় আলোচিত হয় —১ দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের ইরাকে প্রেরণ,২️ বর্তমানে অনিয়মিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণ,৩️ এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।

মূল সিদ্ধান্তসমূহ

চুক্তির আওতায় গৃহীত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে —

ইরাক সরকার সক্রিয়ভাবে ভিসা প্রদান করবে, যাতে বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশি শ্রমিকরা সহজে কাজের সুযোগ পান।

বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়োগকর্তাদের চাহিদাপত্র যাচাই ও সত্যায়ন করবে, যাতে কোনো ধরনের জালিয়াতি না ঘটে।

চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে, যাতে কর্মীরা যাওয়ার আগেই তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত থাকেন।

ইরাকে কর্মীদের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে উপযুক্ত শ্রমিক প্রেরণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

অনিয়মিত কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা

বৈঠকে ইরাকি প্রতিনিধি দল জানায়, বর্তমানে ইরাকে অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণে তারা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। বাংলাদেশ সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সাধারণ ক্ষমার আওতায় আবেদন করবে বলে জানানো হয়েছে।

বার্ষিক পর্যালোচনা কমিটি

শ্রম প্রেরণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ রাখতে প্রতি বছর যৌথ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের মন্ত্রণালয় কর্মসংস্থানের অগ্রগতি ও সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করবে।

স্বাক্ষর ও উপস্থিতি

এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, আর ইরাকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মিডিয়া, আরব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক কাজিম আবদুর রেজা খাইয়ুন আত-ওয়ানি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, এবং এর আগে ইরাকি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল-এর সঙ্গে।

দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশই উইন-উইন (Win-Win) অবস্থায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।ইরাক তাদের উন্নয়নমূলক খাতে শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণ করতে পারবে, আর বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এটি শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পথও খুলে দেবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত