ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশের রয়েল এনফিল্ড বিক্রির নতুন রেকর্ড

২০২৫ অক্টোবর ০৫ ১৬:৩১:২৭

বাংলাদেশের রয়েল এনফিল্ড বিক্রির নতুন রেকর্ড

দেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর মাত্র এক বছরের মধ্যেই দারুণ সাফল্য পেয়েছে রয়্যাল এনফিল্ড। গত বছরের অক্টোবরে ইফাদ মোটরসের হাত ধরে বাজারজাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজারেরও বেশি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। বাইকারদের মাঝে এর উন্মাদনা এতটাই ছিল যে, অনলাইন ও অফলাইন বুকিং শুরুর প্রথম ১০ মিনিটেই প্রায় ৩ হাজার মোটরসাইকেলের ক্রয়াদেশ পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশে প্রথম ৩৫০ সিসি ইঞ্জিন সক্ষমতার মোটরসাইকেল হিসেবে রয়্যাল এনফিল্ড বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে হান্টার ৩৫০, মিটিয়র ৩৫০, ক্ল্যাসিক ৩৫০ এবং বুলেট ৩৫০—এই চারটি আকর্ষণীয় মডেলে বাইকটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। মডেলভেদে এর দাম ৩ লাখ ৭১ হাজার থেকে ৫ লাখ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।

গত বছরের অক্টোবর মাসে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৮ একর জমির ওপর রয়্যাল এনফিল্ডের সংযোজন কারখানার কাজ সম্পন্ন হয়। এই কারখানায় ইফাদ মোটরস ২০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং এর বার্ষিক সংযোজন সক্ষমতা ৩০ হাজার মোটরসাইকেল। ইঞ্জিন ছাড়া বাকি সব যন্ত্রাংশ দেশেই সংযোজন করা হচ্ছে। এটি ভারতের বাইরে রয়্যাল এনফিল্ডের ষষ্ঠ সংযোজন কারখানা, যা নেপাল, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড, কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনার পর স্থাপিত হয়েছে।

ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকিন আহমেদ জানান, তাদের ৪০ বছরের ইতিহাসে তারা সব সময় ভিন্ন কিছু নিয়ে কাজ করেছেন। মোটরসাইকেল কারখানাও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। তিনি বলেন, বিশ্বে লাইফস্টাইল মোটরসাইকেলের বাজার ৫ শতাংশের বেশি নয় এবং দেশে এর চাহিদা বছরে ১৮ থেকে ২০ হাজার। তাসকিন আহমেদ যদিও বড় বিক্রির প্রত্যাশা করেননি, তবুও এক বছরের এই সাড়ায় তারা অত্যন্ত খুশি।

তরুণ বাইকারদের কাছে রয়্যাল এনফিল্ডের গতি, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং আরামদায়ক রাইডিং অভিজ্ঞতা এটিকে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ বিন খুরশিদ, যিনি ক্ল্যাসিক ৩৫০ মডেলের বাইক চালান এবং 'রয়্যাল এনফিল্ড ক্লাব বাংলাদেশ' পরিচালনা করেন, তিনি জানান, শহরের চেয়ে দূরের যাত্রায় এই বাইক অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের।

ইফাদ মোটরস সূত্রে জানা যায়, চারটি মডেলের মধ্যে ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তবে শহরের রাস্তার জন্য হান্টার ৩৫০ মডেলটি জনপ্রিয়। রয়্যাল এনফিল্ডের ১৯টি বিক্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রয়েছে ৭ হাজার বর্গফুটের বিক্রয়কেন্দ্র এবং ৩ হাজার বর্গফুটের সার্ভিস ও বিক্রয়োত্তর সেবাকেন্দ্র। আরও পাঁচটি নতুন বিক্রয়কেন্দ্র চালুর কাজ চলছে।

২০২০ সালে রফিকুন নবী ‘রয়্যাল এনফিল্ড ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলেন, যার সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২ লাখ ৭৭ হাজার। তিনি নকশা ও রাইডিং অভিজ্ঞতাকে জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, তবে যন্ত্রাংশের দাম ও জ্বালানি খরচ কিছুটা বেশি বলে জানান। তেজগাঁও বিক্রয়কেন্দ্রের ইনচার্জ জসিম উদ্দিনও ৩৫০ সিসি ইঞ্জিন হওয়ায় জ্বালানি খরচ কিছুটা বেশি হওয়ার কথা স্বীকার করেন।

বাজারজাতের শুরুতে বাইকটি এতটাই তুমুল সাড়া ফেলেছিল যে, ইফাদ মোটরসের বিপণন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক সাফকাত সাকিন জানান, দেশে আসার ঘোষণার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় গুগলে তথ্য তালাশের তালিকায় রয়্যাল এনফিল্ড শীর্ষে ছিল। এই সাফল্য বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজারে রয়্যাল এনফিল্ডের শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত