ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভুয়া অ্যাপসের ভয়াল থাবা, কয়েক মিনিটেই সব শেষ

২০২৬ মে ০৩ ১৫:৫৪:৪৮

ভুয়া অ্যাপসের ভয়াল থাবা, কয়েক মিনিটেই সব শেষ

দেশে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভুয়া অ্যাপ বা ম্যালওয়্যার নির্ভর সাইবার প্রতারণা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা এখন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সাইবার অপরাধীরা সাধারণত বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলে। কখনো লোন অফার, কখনো সরকারি ভাতা কিংবা জনপ্রিয় কোনো অ্যাপ আপডেটের নামে মেসেজ বা লিঙ্ক পাঠানো হয়। ব্যবহারকারী সেই লিঙ্কে ক্লিক করে অ্যাপ ডাউনলোড করলেই মূল বিপদ শুরু হয়। এসব অ্যাপ ইনস্টল করার পর ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন এসএমএস, ওটিপি, এমনকি স্ক্রিন অ্যাক্টিভিটিও হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ফলে ব্যবহারকারী বুঝে ওঠার আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লে-স্টোর বা অ্যাপ-স্টোরের বাইরে থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক সময় জনপ্রিয় অ্যাপের নকল সংস্করণ তৈরি করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়। এসব অ্যাপ ইনস্টল করার সময় অপ্রয়োজনীয় পারমিশন চেয়ে বসে, যা ব্যবহারকারীরা না বুঝেই অনুমোদন দিয়ে দেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তথ্য চুরির প্রক্রিয়া।

ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেকেই ওটিপি কাউকে না দেওয়ার পরও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হারিয়েছেন। কারণ ম্যালওয়্যার অ্যাপগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনের মেসেজ পড়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ফলে নিরাপত্তার প্রচলিত ধারণাও অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা, অচেনা লিঙ্কে ক্লিক না করা এবং অপ্রয়োজনীয় পারমিশন এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকিং অ্যাপগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন বায়োমেট্রিক বা টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও সতর্ক করা হয়েছে, কেউ এমন প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, সাইবার ঝুঁকিও তত বাড়ছে—তাই সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত