ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড:  স্ত্রী এরিকা কার্কের অঙ্গীকার “চার্লির স্বপ্ন থেমে যাবে না”

২০২৫ সেপ্টেম্বর ১৩ ০৯:২৪:১১

চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড:  স্ত্রী এরিকা কার্কের অঙ্গীকার “চার্লির স্বপ্ন থেমে যাবে না”

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে কনজারভেটিভ অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন শ্যুটার টাইলার রবিনসনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে এক জনসভায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কার্ক। ৩৩ ঘণ্টার অভিযান শেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সন্দেহভাজনের পরিচয়

পুলিশ জানায়, টাইলার রবিনসন ডিক্সি টেকনিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র থেকে উদ্ধার করা বুলেটের খোসায় অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট বার্তা ও কিছু ভিডিও গেম রেফারেন্স পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তার বাবা ছেলের ছবিটি শনাক্ত করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ না করে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিল রবিনসন। শেষ পর্যন্ত পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের সহযোগিতায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়।

বিধ্বস্ত পরিবারের শোক ও প্রতিজ্ঞা

চার্লি কার্কের স্ত্রী এরিকা কার্ক প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,“যদি ভেবে থাকেন আমার স্বামীর মিশন থেমে যাবে, তবে ভুল করছেন। টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হবে।”

তিনি আরও বলেন,“আমার স্বামী শহীদের মুকুট পরে প্রভুর পাশে দাঁড়াবেন। তার স্বপ্ন, বিশ্বাস আর আন্দোলন আমি কখনও শেষ হতে দেব না।”

এরিকা কার্ক তাদের তিন বছরের মেয়েকে সান্ত্বনা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন, যে বাবা কোথায় গেছে জানতে চেয়েছিল।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

উটাহ গভর্নর স্পেন্সার কক্স বলেছেন, রবিনসন খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে হত্যাকারীর জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছেন।

উটাহ অ্যাটর্নি জেনারেল ডেরেক ব্রাউন জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডের বিষয়সহ সব অপশন খোলা রয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

অভিযুক্ত রবিনসনের বিরুদ্ধে আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে। সেদিনই আদালতে প্রথম ভার্চুয়াল হাজিরার কথা রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত