ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইতালির জন্য ভিসা ভোগান্তির শেষ কোথায়

২০২৫ আগস্ট ২৮ ১২:১৪:৪৯

ইতালির জন্য ভিসা ভোগান্তির শেষ কোথায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ইতালি এক সম্ভাবনার দেশ। কৃষি, নির্মাণ ও সেবা খাতে ব্যাপক শ্রমশক্তির চাহিদা থাকলেও ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা এখন হতাশার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতালি সরকার ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সেই ভিসা পেতে গিয়ে হাজারো মানুষ দালালচক্রের ফাঁদে পড়ছেন।

আবেদনকারীরা অভিযোগ করছেন, ভিসা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রিতা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কেউ পাসপোর্ট জমা দিয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষায়, আবার কেউ শুধুমাত্র ফটোকপি জমা দিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এতে প্রবাসীদের পরিবারও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। এই ধীরগতি প্রক্রিয়ায় অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন এবং অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন।

শ্রম অভিবাসন বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। অথচ দালাল ও সিন্ডিকেটের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে সাধারণ মানুষ বৈধ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের উচিত স্বচ্ছ চুক্তি, নির্দিষ্ট খরচ নির্ধারণ এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। তা না হলে বৈধ শ্রম রপ্তানি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

ইতালি অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকলেও বৈধ শ্রমশক্তির জন্য কোটাভিত্তিক ভিসা চালু রেখেছে। কিন্তু তবুও বাংলাদেশিরা এখনও দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশকারী অভিবাসীদের তালিকায় বাংলাদেশিরা শীর্ষে রয়েছে।

এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ঢাকা সফর স্থগিত হওয়ায় সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত ও শক্তিশালী আলোচনার মাধ্যমে এই ভিসা সংকট সমাধান করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রেমিট্যান্স বাজার ইতালি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়বে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত