ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কাঁপছে পৃথিবী! যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

মুস্তাকিম
মুস্তাকিম

জুনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ২৫ ১৬:২৩:২৬

প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কাঁপছে পৃথিবী! যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভাবুন তো, প্রতি ২৬ সেকেন্ড পর পর পৃথিবী যেন একবার শ্বাস নেয়, আবার থামে, আবার শুরু করে! অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য—প্রায় ছয় দশক ধরে বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করছেন এই অদ্ভুত নিয়মিত কম্পন, যা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে সিসমোগ্রাফে ধরা পড়ে। তবে আজও এর সঠিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি তারা।

রহস্যের সূচনা

১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে প্রথম ধরা পড়ে এই রহস্যময় স্পন্দন। পরে ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন ভূকম্পনবিদ জ্যাক অলিভার এ নিয়ে গবেষণা করে জানান, এটি পৃথিবীর ভেতর থেকে আসা এক ধরনের নিরবচ্ছিন্ন সংকেত। বিজ্ঞানীরা একে নাম দিয়েছেন—পৃথিবীর হৃদস্পন্দন (Heartbeat of Earth)।

কেমন এই কম্পন?

এটি এতটাই ক্ষুদ্র যে মানুষ সরাসরি টের পায় না।

সিসমোগ্রাফ যন্ত্রে স্পষ্টভাবে রেকর্ড হয়।

পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে এটি ধরা সম্ভব, যা প্রমাণ করে এটি বৈশ্বিক ঘটনা।

সম্ভাব্য কারণ

এখন পর্যন্ত কয়েকটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে—

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে গিনি উপসাগরের ঢেউ ও সমুদ্রতলের সংঘর্ষ।

পৃথিবীর অভ্যন্তরের ম্যান্টল স্তরে বিশেষ কোনো প্রক্রিয়া।

টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালন বা সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ।

রহস্য অমীমাংসিত

এখনও এমন কোনো প্রমাণ নেই যে এই স্পন্দন ভূমিকম্প, সুনামি বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে পৃথিবীর স্বাভাবিক ছন্দ হিসেবে দেখছেন।

প্রতি ২৬ সেকেন্ডে পৃথিবীর এই নীরব স্পন্দন একদিকে বিজ্ঞানীদের বিভ্রান্ত করছে, অন্যদিকে আমাদের কৌতূহলকে বাড়িয়ে তুলছে। হয়তো একদিন আধুনিক গবেষণাই উন্মোচন করবে এই রহস্য। ততদিন পর্যন্ত এটি থেকে যাবে পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় ও নীরব প্রাকৃতিক বিস্ময় হিসেবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত