ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুযোগ হারালো বাংলাদেশ: দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মী কোটা পূরণে ব্যর্থতা

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ২০ ১৮:১২:৪০

সুযোগ হারালো বাংলাদেশ: দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মী কোটা পূরণে ব্যর্থতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ কোরিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস)-এর আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সাড়ে ১১ হাজার কোটা বরাদ্দ থাকলেও সেই সংখ্যা পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ। ফলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যান যা বলছে

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর তথ্যানুসারে—

২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৫,৯১০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কোরিয়ায় গিয়েছিলেন।

২০২৩ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে ৪,৯৯৬ জনে।

২০২৪ সালে আরও কমে দাঁড়ায় ৩,০৩৮ জনে।

২০২৫ সালের মে পর্যন্ত মাত্র ৮৪০ জন কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।

অন্যদিকে, গত ১৮ বছরে (২০০৮–২০২৫) কোরিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা ওঠানামা করেছে। করোনা মহামারির সময়ে ২০২০ সালে মাত্র ২০৮ জন এবং ২০২১ সালে ১০৮ জন কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।

মূল অন্তরায়: কোরিয়ান ভাষা দক্ষতা

দায়িত্বশীল কূটনীতিকরা জানান, ভাষাগত দক্ষতার অভাবই প্রধান বাধা। কোরিয়ান ভাষায় দক্ষ কর্মী সরবরাহ করতে না পারায় কোটা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে, যেখানে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো তুলনামূলক ভালো করছে।

আসন্ন পররাষ্ট্র বৈঠক

আগামী ২৬ আগস্ট সিউলে চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম।

কোরিয়ার পক্ষে থাকবেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউনজু।

আলোচনায় থাকছে—

ইপিএস কর্মী কোটা পূরণে সহযোগিতা

এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট (ঢাকা-সিউল সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি)

ইনফ্রাস্ট্রাকচার, শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা

কোরিয়ান কোম্পানির বিনিয়োগ বৃদ্ধি

সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য সেপা (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট)

ঢাকা–সিউল ফ্লাইট

বর্তমানে ঢাকা-সিউল রুটে চার্টার্ড ফ্লাইট চালু থাকলেও নিয়মিত ফ্লাইট নেই। নতুন এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর হলে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হবে, যা কর্মী যাতায়াত ও ব্যবসা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ গত দেড় যুগ ধরে ইপিএসের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—

দ্রুত কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা বিস্তৃত করতে হবে।

দক্ষ কর্মী তৈরি করতে আলাদা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাড়ানো দরকার।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেলের সমন্বয় জোরদার করতে হবে।

এমন উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাংলাদেশ কেবল কোটা পূরণই নয়, বরং আরও বেশি সুযোগ পেতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত