ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিমানের মধ্যেই সহযাত্রীকে থাপ্পড়, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

২০২৫ আগস্ট ০২ ১৬:৪২:১০

বিমানের মধ্যেই সহযাত্রীকে থাপ্পড়, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের মুম্বাই থেকে কলকাতাগামী একটি ফ্লাইটে সহযাত্রীকে চড় মারার ঘটনা এখন সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গত ৩১ জুলাই ৬ই ১৩৮ নম্বর ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটির ভিডিও ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অসুস্থ এক মুসলিম যাত্রীকে সাহায্য করছিলেন কেবিন ক্রুরা—ঠিক তখনই পাশের এক যাত্রী হঠাৎ তাকে চড় মেরে বসেন।

ভুক্তভোগীর নাম হুসেন আহমেদ মজুমদার (৩২)। তিনি মুম্বাইয়ে কর্মরত হলেও বাড়ি আসামে। তার বাবা আবদুল মান্নান মজুমদার ভিডিও দেখে ছেলেকে শনাক্ত করেছেন। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, একজন সহযাত্রী প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনার কারও গায়ে হাত তোলার অধিকার নেই।” কেবিন ক্রুরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুরো ঘটনাটি নিয়ে ফ্লাইটজুড়ে হুলস্থুল শুরু হয়।

ইন্ডিগোর অবস্থান:ইন্ডিগো এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। অভিযুক্ত যাত্রীকে ‘unruly passenger’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্লেন অবতরণের পর তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাকে ‘নো-ফ্লাই লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।

ধর্মীয় বিতর্ক না মানসিক চাপ?ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতে শুরু হয় বিতর্কের ঝড়। কেউ কেউ ঘটনাটিকে ধর্মীয় বিদ্বেষ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও অল্ট নিউজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জুবায়ের এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, দুজন যাত্রীই মুসলিম। ঘটনার পেছনে ধর্মীয় কারণ নয়, বরং মানসিক চাপে থাকা একজন যাত্রীর আচরণ ছিল এটি।

তবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা। আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে কিনা। তিনি বলেন, “ফ্লাইটে কারও গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”

সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের দাবি:বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্থা সিআইএসএফ ও নাগরিক সমাজ এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। ইন্ডিগো জানায়, তাদের মূল অগ্রাধিকার যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা এবং সম্মানজনক পরিবেশ বজায় রাখা।

এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল—ফ্লাইটে যাত্রীদের আচরণ, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর কতটা নজর দেওয়া হচ্ছে?

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত