ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ওমান প্রবাসীদের জন্য সুখবর, পাসপোর্ট জব্দে কঠোর শাস্তির বিধান

মো : খুরশেদ আলম
মো : খুরশেদ আলম

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ জুলাই ২৬ ২১:০৮:৩৭

ওমান প্রবাসীদের জন্য সুখবর, পাসপোর্ট জব্দে কঠোর শাস্তির বিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ওমানে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। ওমান সরকারের শ্রম আইনের আওতায় নিয়োগকর্তার পাসপোর্ট জব্দ করার প্রচলিত অনৈতিক প্রক্রিয়া এখন গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ওমানের শ্রম আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো নিয়োগকর্তা প্রবাসীর লিখিত সম্মতি ছাড়া তার পাসপোর্ট কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিজের কাছে রাখতে পারবে না। এই ধারা স্পষ্টভাবে প্রবাসীদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় এক বড় নিরাপত্তা দেয়াল হিসেবে কাজ করছে।

টাইমস অব ওমানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ ইব্রাহিম ল’ ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল জাদজালি জানান, প্রবাসীর লিখিত সম্মতি ছাড়া নিয়োগকর্তা পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখলে সেটি “সম্পূর্ণ অবৈধ” হিসেবে বিবেচিত হবে। মৌখিক অনুমতি, চুক্তিতে গোপন শর্ত, কিংবা জোরপূর্বক আদায়—সবই আইনের লঙ্ঘন।

এই আইন প্রবাসীদের চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। কেউ চাইলে চুক্তির মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে যেতে পারবেন। আবার কোনো কর্মপরিবেশ যদি মানবাধিকারবিরোধী হয়, তাহলে আইনের সহায়তা নিয়ে চুক্তি বাতিল করে চলে আসার সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা।

কঠোর শাস্তির বিধান:ওমানের শ্রম আইনের ১৪৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো নিয়োগকর্তা অবৈধভাবে প্রবাসীর পাসপোর্ট জব্দ করেন, তাকে ৫০০ থেকে ১,০০০ ওমানি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। একই অপরাধ আবার করলে জরিমানা দ্বিগুণ হবে। এই আইনের মাধ্যমে ওমান সরকার প্রবাসী কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও শোষণ রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এই পদক্ষেপ বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার হাজারো প্রবাসীর জন্য বড় স্বস্তির বিষয়, যাদের পাসপোর্ট আটকে রেখে নিয়োগকর্তারা ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতেন বা বিদেশ যাত্রার পথ বন্ধ করে দিতেন।

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ: যদি কোনো নিয়োগকর্তা আপনার পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখতে চান, লিখিত সম্মতি ছাড়া তা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের হটলাইন অথবা দূতাবাসে যোগাযোগ করুন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত