ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আড়াই হাজার টাকার ভিসা বিক্রি হচ্ছে আট লাখে! কুয়েতগামী বাংলাদেশিদের চোখে জল

২০২৫ জুলাই ০৯ ০০:১৩:০৮

আড়াই হাজার টাকার ভিসা বিক্রি হচ্ছে আট লাখে! কুয়েতগামী বাংলাদেশিদের চোখে জল

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার নির্ধারিত মাত্র আড়াই হাজার টাকার কুয়েত শ্রমিক ভিসা বিক্রি হচ্ছে আট লাখ টাকায়! ভয়াবহ এই অনিয়মের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। চাঁদপুরের দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, পাঁচ বছর সৌদি প্রবাস শেষে দেশে ফিরে ক্ষুদ্র ব্যবসায় লাভের মুখ না দেখে আবারও বিদেশমুখী হন। কুয়েতে পাড়ি জমাতে গিয়ে তাকে গুনতে হয়েছে সাত লাখ টাকা—যেখানে প্রকৃত ভিসা খরচ মাত্র ছয় দিনার, অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার টাকা!

কুমিল্লার ইকবাল হোসেনও পড়েছেন একই ফাঁদে। দালালের মাধ্যমে সাড়ে ছয় লাখ টাকা খরচ করে কুয়েত গেছেন জুন মাসে। কাজ পেলেও ইকবালের অভিযোগ—এই বিপুল ব্যয় ছিল তার একেবারেই অপ্রত্যাশিত। অধিকাংশ অর্থই গেছে দালালদের পকেটে।

২০০৭ সাল থেকে কুয়েত বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমিক ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ করে। সেই ফাঁক গলে দালাল চক্র গড়ে তোলে বিশাল এক সিন্ডিকেট। বিশেষ অনুমোদনের ভিত্তিতে সীমিত ভিসা ইস্যু হওয়ায় চাহিদা ও জটিলতাকে পুঁজি করে তারা বাড়িয়ে দেয় ভিসা ও প্রসেসিং খরচ।

প্রবাসী সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট আব্দুস সালেহ বলেন, “বাস্তবে ভিসার সরকারি খরচ মাত্র ছয় দিনার। অথচ দালালরা তা ২০০০ দিনার পর্যন্ত হাঁকাচ্ছে—যা প্রায় আট লাখ টাকা! এই অর্থের বড় অংশই চলে যায় অবৈধ চক্রের হাতে।”

বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের একজন নেতা জানান, ভারত, পাকিস্তান কিংবা নেপালের নাগরিকদের তুলনায় বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ভিসার খরচ অনেক বেশি। একমাত্র কারণ—বাংলাদেশি দালাল চক্র পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

এদিকে, বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৪৫০টি ভিসা সত্যায়নের আবেদন পাচ্ছে তারা, যার এক-তৃতীয়াংশ দক্ষ কর্মীর। তারা বলছে, শুধু সত্যায়ন নয়, ভবিষ্যতে যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়েও নজরদারি চলছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত খরচের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগীদের তথ্য ছাড়া দালাল চক্র ভাঙা কঠিন। এ জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসে যাওয়ার এই খরচ যদি সরকার নির্ধারিত সীমায় না আনা যায়, তাহলে দেশের দরিদ্র মানুষরা আরও বেশি নিপীড়নের শিকার হবে। এখন সময় দালাল চক্র ভেঙে একটি স্বচ্ছ ও মানবিক অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত