ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ভিডিওবার্তায় যা বললেন তারেক জিয়া

২০২৪ আগস্ট ০৫ ২৩:১৩:২৮

শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ভিডিওবার্তায় যা বললেন তারেক জিয়া

সাধারণ ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের প্রতিবাদে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি সামরিক হেলিকপ্টারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শেখ হাসিনা তার ছোট বোনসহ গণভবন থেকে নিরাপদে বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। দেশ ছাড়ার আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণ রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সে সুযোগ না পেয়ে শেখ হাসিনা আগেই দেশ ছেড়েছেন।

শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক জিয়া। এদিন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় লন্ডন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। ক্যাপশনে বিএনপি নেতা লিখেছেন, 'শান্তিপূর্ণভাবে বিজয়ের এই আনন্দময় সময়টি উদযাপন করুন। দয়া করে প্রতিশোধ বা প্রতিশোধ নিতে চাইবেন না। দয়া করে আইন হাতে তুলে নিবেন না।

এ সময় তারেক জিয়া প্রথমে শেখ হাসিনার পদত্যাগে দেশের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে জনগণের এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের শিকার হতে হয়েছে। রাহু মুক্ত হলো আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। জনগণের বিপ্লবের প্রথম পর্ব শেষ পর্যন্ত সফল হয়। লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে জয়ী বাংলাদেশ কখনো পরাজয় মেনে নিতে পারে না।

এ সময় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক জিয়া বলেন, আপনাদের সন্তানদের শহিদি মৃত্যু, স্বজনদের ত্যাগ প্রতীক্ষায় এই ৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে প্রিয় বাংলাদেশ আর একটি বিজয় দেখেছে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেফতারকৃত, কারাগারে থাকা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তারেক জিয়া।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন আবার স্বাভাবিকভাবে হলে, হোস্টেলে, ক্লাসে ফিরতে পারেন এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন, সেই পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করার আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করে সাড়ে ১২ কোটি ভোটারের অধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, লুণ্ঠিত ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছে। এর মধ্যে দিয়ে জনগণের বিপ্লবের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকাসহ সারাদেশে সরকার সমর্থিত নেতা-কর্মী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক মানুষ নিহত হন। সিরাজগঞ্জের ইনায়েতপুর থানায় ১৩ জন ছাড়াও কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জে পৃথক হামলায় হাইওয়ে থানার এক পুলিশ সদস্যসহ মোট ১৪ পুলিশ নিহত হয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে ভর্তিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে গত বছরের ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। এমতাবস্থায় গত ১৫ জুলাই রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ লাগাতার হামলা চালায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর। এসময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ গুলি চালায়।

ছাত্রদের উপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীদের হামলায় কয়েক শতাধিক ছাত্র ও বেসামরিক লোক নিহত হয়। এমতাবস্থায় ছাত্র ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ-আন্দোলন দেখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত