ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
নিম্ন জন্মহারের নজিরবিহীন রেকর্ড গড়ল চীন
টানা দুই বছর ধরে জনসংখ্যা হ্রাস অব্যাহত রয়েছে চীনে; সেই সঙ্গে ২০২৩ সালে নিম্ন জন্মহারের রেকর্ডও করেছে একসময় বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করা এই দেশটি। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৩ সালে চীনের জনসংখ্যা ছিল ১৪০ কোটি ৯০ লাখ। দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, আগের বছর ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে মোট জনসংখ্যা কমেছে ২০ লাখ ৮ হাজার।
এর আগে ২০২২ সালেও জনসংখ্যা অন্তত ৮ লাখ ৫০ হাজার হ্রাস পেয়েছিল চীনে। পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুসারে, ১৯৬১ সালের মহাদুর্ভিক্ষের পর এই প্রথম টানা দুই বছর ধরে জনসংখ্যা হ্রাসের ধারা দেখছে দেশটি। ২০২২ সালে জনসংখ্যা হ্রাসের প্রধান কারণ ছিল কোভিড। টানা আড়াই বছর কঠোর করোনাবিধি জারি রাখার পর ওই বছর নভেম্বরে ব্যাপক জনবিক্ষোভের মুখে আকস্মিকভাবে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয় বেইজিং। তার জেরে ওই বছরের শেষ থেকে ২০২৩ সালের শুরু পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে চীনে।
কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে চীনের মোট মৃত্যুর ঘটনা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ১ কোটি ১১ লাখে। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম এক বছরে এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু দেখেছে দেশটি। একই বছর ৯০ লাখ ২০ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে দেশটিতে। শতাংশ হিসেবে এই হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ইতিহাসে এর আগে এত কম জন্মহার দেখেনি চীন। ২০২২ সালে দেশটিতে জন্মহার ছিল ৬ দশমিক ৭৭। এক শিশু নীতি এক সময় এশিয়ার উন্নয়নশীল এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মতো চীনেও অতিরিক্ত জনসংখ্যা একটি সমস্যা হিসেবে হাজির ছিল। ১৯৮০ সালে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি সেই সমস্যার সমাধান হিসেবে এক সন্তান নীতি চালু করে। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে জন্মহার কমা শুরু হওয়ার ৫ বছর পর, ২০১৫ সালে সেই নীতি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় চীন।
কিন্তু তবুও কাঙ্ক্ষিত জন্মহার অধরাই থেকে যায়। কারণ, বর্তমানে চীনে সন্তানদের বড় করার খরচ, শিক্ষাব্যয় এত বেশি যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দম্পতিই একটির অধিক সন্তান নিতে আগ্রহী হন না। এই সংকটকে আরও প্রকট করেছে চীনের কঠোর করোনানীতি। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে লকডাউন, কোয়ারেন্টাইনসহ যাবতীয় কঠোর নীতি জারি থাকায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল, আরও তিন-চার বছর তার রেশ থাকবে বলে ধরণা করা হচ্ছে। চীনের সরকার অবশ্য জন্মহার বাড়ানোর ব্যাপারটিতে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। গত বছর এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনের নারীদেরকে আরও বেশি সন্তান ধারণের জন্য উৎসাহ দিয়ে বলেছেন, ‘চীনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বড় পরিবার। নারীদের প্রতি আমার অনুরোধ, নিজেদের পূর্বপ্রজন্মের নারীদের অনুসরণ করুন এবং পরিবারের আকার বড় করুন।’
দম্পতিদের অধিক সন্তান নিতে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচিও হাতে নিয়েছিল বেইজিং। কিন্তু তহবিল সংকট ও স্থানীয় সরকারের উৎসাহের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে সেসব কর্মসূচি। ৩৬ বছর বয়সী ওয়াং ওয়েইডং বেইজিংয়ের একটি ইন্টারনেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। এক সন্তানের পিতা ওয়াং জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী— উভয়ই দ্বিতীয় সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকতে চান। ‘সরকার যেসব কর্মসূচি নিয়েছে, তাতে আসলে কোনো কাজ হবে না। মূল সমস্যা হলো— সাধারণ জনগণের আয় কমে গেছে। আয় না বাড়লে জন্মহার বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব নয়,’ বলেন ওয়াং।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও কি গোল্ডেন বুটের হিসাবের মধ্যে পড়ে?
- গোল্ডেন গ্লাভসের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?
- আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটি মোবাইলে ফ্রিতে সরাসরি দেখুন এখানে, LIVE
- ২০মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে, LIVE
- ঝামেলা ছাড়াই মোবাইলে দেখুন আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে Live
- ১০ মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- 35 মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- অপটার ভবিষ্যবাণী : বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের আগেই চ্যাম্পিয়ন দলের নাম ঘোষণা
- ৩০ মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে, LIVE
- মোবাইলে ফ্রিতে আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে, LIVE
- চলছে আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে, LIVE
- শুরু হলো দ্বিতীয়ার্ধের খেলা, মোবাইলে খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- 20মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুট, বল ও গ্লাভসের লড়াই, এগিয়ে আছেন কারা?
- ৪৩মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)