ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল: কাকে এগিয়ে রাখছে সুপার কম্পিউটার?

২০২৬ জুলাই ১৫ ১৬:৫৭:০৩

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল: কাকে এগিয়ে রাখছে সুপার কম্পিউটার?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল। দুই ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। ম্যাচের আগে ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। সেই বিশ্লেষণে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছে ইংল্যান্ডকে, যদিও দুই দলের সম্ভাবনার পার্থক্য খুবই কম।

অপ্টার হাজারো সিমুলেশনের ভিত্তিতে করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৩৮.২ শতাংশ। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৩২.০ শতাংশ। এছাড়া ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৯.৭ শতাংশ, সেক্ষেত্রে খেলা গড়াতে পারে অতিরিক্ত সময়ে, প্রয়োজনে টাইব্রেকারেও।

তবে শুধু ৯০ মিনিটের হিসাব নয়, অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারসহ ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও বিশ্লেষণ করেছে অপ্টা। সেখানে ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা ৫১.৯ শতাংশ, আর আর্জেন্টিনার ৪৮.১ শতাংশ। অর্থাৎ পরিসংখ্যানের বিচারে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান এতটাই কম যে যেকোনো দলই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও কিছুটা এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ৬টি, আর্জেন্টিনা জিতেছে ২টি (নির্ধারিত সময়ে), আর ৬টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নির্ধারিত সময়ে ড্র হওয়া ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, যা ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসেও দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সমানভাবে আলোচিত। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' এবং 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি' ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। এরপর ১৯৯৮ সালে টাইব্রেকারের নাটক, আর ২০০২ সালে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ডের জয়—প্রতিটি ম্যাচই নতুন ইতিহাস লিখেছে।

এবারের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার ভরসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যিনি পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের আশা জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইন এবং শক্তিশালী দলগত পারফরম্যান্স। দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় এটি হতে পারে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি।

যদিও সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাসে ইংল্যান্ডকে সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে, ফুটবলের বাস্তবতা হলো—বড় ম্যাচে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। একটি মুহূর্ত, একটি ভুল কিংবা একজন তারকার নৈপুণ্য পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। তাই কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ এখন আটলান্টার এই মহারণে, যেখানে নির্ধারিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ফাইনালিস্ট।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত