ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

যে কারণে বাতিল ইয়ামালের গোল

২০২৬ জুলাই ১৫ ১৬:৪৭:৪৮

যে কারণে বাতিল ইয়ামালের গোল

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। তবে ম্যাচে সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি ছিল তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের দারুণ একটি গোল, যা শেষ পর্যন্ত অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়।

ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে বক্সে প্রবেশ করেন ইয়ামাল। এরপর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তিনি ফ্রান্সের জালে বল পাঠালে স্প্যানিশ খেলোয়াড় ও সমর্থকরা ৩-০ ব্যবধানের উল্লাসে মেতে ওঠেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর সহকারী রেফারির সংকেত এবং ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার ভিত্তিতে গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।

রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় ইয়ামাল প্রতিপক্ষের শেষ ডিফেন্ডারের সামনে অবস্থান করছিলেন। ফুটবলের অফসাইড আইন অনুযায়ী, বল পাস দেওয়ার মুহূর্তে কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় যদি প্রতিপক্ষের শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে সামনে থেকে খেলায় সরাসরি প্রভাব ফেলেন, তাহলে সেটি অফসাইড হিসেবে গণ্য হয়। সেই কারণেই রেফারি গোলটি অনুমোদন দেননি।

যদিও গোলটি স্কোরশিটে যোগ হয়নি, তবুও পুরো ম্যাচে লামিন ইয়ামালের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। তার গতি, ড্রিবলিং এবং বল নিয়ন্ত্রণ বারবার ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলেছে। ম্যাচের ২২তম মিনিটেও তার দ্রুতগতির আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বক্সের ভেতরে ফাউল করেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। সেই ফাউল থেকে স্পেন পেনাল্টি পায় এবং মিকেল ওইয়ারজাবাল সফলভাবে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

বিশ্বকাপজুড়ে স্পেনের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন ইয়ামাল। গোল বাতিল হলেও তার সৃজনশীলতা, আক্রমণ তৈরি করার ক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার দক্ষতা আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি বর্তমান ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের একজন।

শেষ পর্যন্ত ইয়ামালের বাতিল হওয়া গোল স্পেনের জয়ে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং দুর্দান্ত দলীয় নৈপুণ্যে ফ্রান্সকে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত