ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

নতুন ভিসানীতির অনুমোদন দিল সরকার

২০২৬ জুলাই ০২ ২৩:৫৩:১৮

নতুন ভিসানীতির অনুমোদন দিল সরকার

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল করতে নতুন ভিসানীতি-২০২৬-এর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। নতুন নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং আধুনিক করা, যাতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিদেশি বিনিয়োগের ভূমিকা আরও বাড়ে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, নতুন ভিসানীতিকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, পর্যটনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো থাকবে। তারা নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, ব্যবসা ও পর্যটনের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করবে।

সরকারের মতে, এতদিন ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে অনেকটাই পারস্পরিকতার নীতি অনুসরণ করা হতো। অর্থাৎ, কোনো দেশ বাংলাদেশকে যে ধরনের বা যত দিনের ভিসা দিত, বাংলাদেশও সেই দেশের নাগরিকদের একই সুবিধা দিত। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই নীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার। বিশেষ করে বিদেশি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও দক্ষ পেশাজীবীদের বাংলাদেশে আসা সহজ হলে কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নতুন ভিসানীতিতে মোট ৩৪টি ভিসা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এর মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিকদের জন্য আরও নির্দিষ্ট ও সহজতর ভিসা ব্যবস্থা চালু করা হবে। সরকার আশা করছে, এতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের বিদ্যমান ভিসা নীতিমালাকে যুগোপযোগী করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশ ও অবস্থান আরও সুশৃঙ্খল করা, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা।

সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন ভিসানীতি চূড়ান্ত হলে বিদেশি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত