ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বালোগুনের লাল কার্ড স্থগিত, ফিফার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ উয়েফা ও বেলজিয়াম

২০২৬ জুলাই ০৭ ০৯:৩৯:১৪

বালোগুনের লাল কার্ড স্থগিত, ফিফার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ উয়েফা ও বেলজিয়াম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে পরবর্তী ম্যাচে খেলার অনুমতি দেওয়ায় ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা প্রকাশ্যে ফিফার সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন এবং দলের কোচও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগুন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী নকআউট ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে তার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে দেয়। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে আর কোনো বাধা থাকেনি যুক্তরাষ্ট্রের এই ফরোয়ার্ডের।

আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানোর পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। তবে এ বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ফিফার এই পদক্ষেপের পর কঠোর ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে উয়েফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফুটবল এমন একটি খেলা যেখানে নিরপেক্ষতা ও নিয়মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উয়েফার মতে, কোনো খেলোয়াড়ের শাস্তি এভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি অযৌক্তিক ও নজিরবিহীন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফুটবলের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো সবাই নিয়মের প্রতি আস্থা রাখে। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তাই তারা ফিফার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনও ফিফার সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সব দলের জন্য সমান নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাই বিষয়টি নিয়ে সম্ভাব্য আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।

বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়াও নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে ৫ জুলাই হঠাৎ করেই এপ্রিল ফুল দিবসে পরিণত হয়েছে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।

দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রতিপক্ষের প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়েছে। যদি আগে থেকেই বিষয়টি জানা যেত, তাহলে ম্যাচ পরিকল্পনা আরও ভালোভাবে সাজানো সম্ভব হতো।

এই ঘটনা বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফিফা তাদের অবস্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয় কি না এবং ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো নীতিগত পরিবর্তন আনা হয় কি না।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত