ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা— বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দিয়েছিল কোন দেশ, জানুন

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৬ জুলাই ০১ ১৭:৩১:২৪

ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা— বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দিয়েছিল কোন দেশ, জানুন

বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আবেগের নাম ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ এলেই এই দুই দলকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল উন্মাদনা, বিতর্ক ও উৎসব। তবে ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরেও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। অনেকেই জানতে চান, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দিয়েছিল কোন দেশ—ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা?

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করে। এর আগেই ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভুটান এবং একই দিনে ভারতও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি ঘোষণা করে। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ধীরে ধীরে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলই বাংলাদেশের প্রতি আগে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯৭২ সালের ১৫ মে ব্রাজিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সেই বছরের মধ্যেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও ব্রাজিল কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে, যা দুই দেশের দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ২৫ মে, অর্থাৎ ব্রাজিলের দশ দিন পরে। একই দিনে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়। ফলে ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী স্বাধীন বাংলাদেশকে আর্জেন্টিনার আগে স্বীকৃতি দিয়েছিল ব্রাজিল।

বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার সম্পর্কের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো দূতাবাস। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার দূতাবাস বন্ধ হয়ে গেলেও, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সমর্থকদের অসাধারণ ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণে আর্জেন্টিনা সরকার নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেয়। অবশেষে ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৪৫ বছর পর ঢাকায় পুনরায় চালু হয় আর্জেন্টিনার দূতাবাস।

ব্রাজিলের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের যোগাযোগ ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ব্রাজিলের বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। একইভাবে আর্জেন্টিনার সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের ফুটবলার এবং কূটনীতিকরাও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ব্রাজিলের অ্যালিসন বেকার, কাসেমিরো, মাথেউস কুনিয়া এবং আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতও একাধিকবার স্থানীয় সমর্থকদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছেন।

ইতিহাসের নথি অনুযায়ী স্পষ্টভাবে বলা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে স্বীকৃতি দিয়েছিল ব্রাজিল। এরপর দশ দিন পর বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা। ফলে ফুটবলের মাঠে যতই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক, বাংলাদেশের ইতিহাসে দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ