ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

শেষ মুহূর্তের গোলে শেষ হলো পর্তুগাল বনাম স্পেন ম্যাচ

২০২৬ জুলাই ০৭ ০৭:২৬:০৪

শেষ মুহূর্তের গোলে শেষ হলো পর্তুগাল বনাম স্পেন ম্যাচ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে হার মানে পর্তুগাল। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল। অনেকের ধারণা, এটাই ছিল পর্তুগিজ মহাতারকার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বল দখল, দ্রুত আক্রমণ এবং প্রতিআক্রমণে ম্যাচের গতি ছিল দারুণ। তবে দুই দলের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা এবং গোলরক্ষকদের অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

শুরুতেই জোয়াও কানসেলোর একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর স্পেনের হয়ে মিকেল ওইয়ারসাবাল নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও সফল হতে পারেননি। অন্যদিকে ১২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাস থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন।

ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। লামিন ইয়ামাল এবং আলেক্স বায়েনার টানা দুটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে দলকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান তিনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও উনাই সিমন জোড়া সেভ করে পর্তুগালকে হতাশ করেন। জোয়াও ফেলিক্স ও রোনালদোর নেওয়া শট ফিরিয়ে দিয়ে স্পেনকে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা করেন এই গোলরক্ষক।

৪১ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়। নুনো মেন্দেসের শক্তিশালী শট স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। ভাগ্য সহায় না হলে তখনই পিছিয়ে পড়তে পারত স্পেন।

বিরতির পর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। দুই দলই বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি। ৫৬ মিনিটে চোটের কারণে নুনো মেন্দেস মাঠ ছাড়লে পর্তুগালের রক্ষণে কিছুটা পরিবর্তন আসে। এরপরও স্পেনের আক্রমণ সামলে যেতে থাকে পর্তুগিজরা।

৭৩ মিনিটে লামিন ইয়ামালের নেওয়া বিপজ্জনক ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন দিয়োগো কস্তা। ফলে ম্যাচ ধীরে ধীরে অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ইনজুরি টাইমে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। মাঝমাঠ থেকে রদ্রির নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় জালে বল জড়িয়ে দেন বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তের এই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির, আর হতাশায় ডুবে যায় পর্তুগাল।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে সক্ষম হলো স্পেন। একই সঙ্গে গত মৌসুমে উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হারের প্রতিশোধও নিয়ে নিল লা রোহা।

অন্যদিকে, গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া পর্তুগাল এবার বিদায় নিল শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে না পেরে। আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য এটি হয়ে রইল আরেকটি অপূর্ণ বিশ্বকাপ অভিযানের সমাপ্তি। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও অধরা রয়ে গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন।

এখন কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। দুর্দান্ত রক্ষণ, ভারসাম্যপূর্ণ মিডফিল্ড এবং কার্যকর আক্রমণভাগ নিয়ে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে স্প্যানিশরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত