ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাধারণ মানুষের ওপর নতুন ধাক্কা: আজই ঘোষণা হচ্ছে বিদ্যুতের নতুন দাম

২০২৬ জুন ০৩ ০৯:৩৪:৫৪

সাধারণ মানুষের ওপর নতুন ধাক্কা: আজই ঘোষণা হচ্ছে বিদ্যুতের নতুন দাম

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষের ওপর আসতে যাচ্ছে খরচের নতুন বড় ধাক্কা। খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ বুধবার (৩ জুন ২০২৬) বিকেলের দিকে বিদ্যুতের এই নতুন ট্যারিফ বা মূল্যহার ঘোষণা করা হতে পারে। তবে গ্রাহকদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো, আজ ঘোষণা করা হলেও এই নতুন মূল্যহার গত ১ জুন থেকেই কার্যকর ধরা হবে।

বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, আজ সকাল ১১টায় কমিশনের কারিগরি কমিটির বৈঠকে ইউনিটপ্রতি মূল্যবৃদ্ধির হার চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া শর্ত পূরণের অংশ হিসেবেই মূলত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই মাস আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি মন্ত্রিসভা কমিটি ইউনিটপ্রতি ১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই বিইআরসি কারিগরি দল গড়ে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ইউনিটপ্রতি ১ টাকার কম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

নতুন এই মূল্য কাঠামোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ ধাপ। ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে মূল্যবৃদ্ধি করা হলেও, এরপর ২০০ থেকে ৪০০ ইউনিট, ৪০০ থেকে ৬০০ ইউনিট এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে বড় হারে মূল্যবৃদ্ধির বিল চাপবে। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য চালু থাকা ‘লাইফ লাইন’ (নূন্যতম ইউনিট ব্যবহারকারী) সুবিধায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। বছরে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিপিডিবির কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের উচ্চ বিনিময় হার এবং এলএনজি, কয়লা ও তেল আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রির কারণে তাদের লোকসান দাঁড়াবে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। মূলত এই ভর্তুকির চাপ কমাতেই সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কাটার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে অর্থনীতিবিদ ও কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধিরা এই মূল্যবৃদ্ধির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিল্প-কারখানা, সেচব্যবস্থা ও কোল্ড স্টোরেজসহ সব খাতেই উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। ফলস্বরূপ, বাসাভাড়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে আগুন জ্বলবে, যা মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত