ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি খুলতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধস: সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত

২০২৬ এপ্রিল ১৮ ০৯:৩৮:৪২

হরমুজ প্রণালি খুলতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধস: সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। এই প্রণালিটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায় এর কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তেলের দাম দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে।

ঘোষণার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৮ ডলারের বেশি থেকে কমে ৮৮ ডলারে নেমে আসে। এর আগে চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও বড় ধরনের পতন দেখায়, যা ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলারের বেশি কমে প্রায় ৮৩ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পতন সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় নিম্নগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দামের পতনের মূল কারণ হলো বাজারে “ঝুঁকি প্রিমিয়াম” কমে যাওয়া। অর্থাৎ, সংঘাত বা পরিবহন বিঘ্নের কারণে যে অতিরিক্ত মূল্য যুক্ত হয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ায় তেল সরবরাহে বড় ধরনের বাধা থাকবে না—এমন ধারণা থেকেই বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

এর আগে সংঘাত শুরুর আগের সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর মার্চ মাসে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ১১৯ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। ফলে বর্তমান পতনকে অনেকেই বাজারের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

এই পরিবর্তনের প্রভাব তেল আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তেলের দাম কমলে আমদানি ব্যয় হ্রাস পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ ও পরিবহন ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তেলের বাজার খুব দ্রুতই আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত