ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বড় দু:সংবাদ : নতুন বিপদে ইরান

২০২৬ এপ্রিল ১৬ ২২:২৮:১৬

বড় দু:সংবাদ : নতুন বিপদে ইরান

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের তেল খাতকে লক্ষ্য করে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বুধবার (১৫ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির তথ্য অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের জ্বালানি ও তেল পরিবহন নেটওয়ার্ককে আরও চাপে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের পেট্রোলিয়াম পরিবহন খাতে সক্রিয় একটি বড় নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করা হয়েছে। বিশেষ করে মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ডজনের বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং একাধিক জাহাজকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যকে ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ ছাড়া সৈয়দ নাইমাই বদরুদ্দিন মুসাভি নামের একজন ব্যক্তিকেও নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তিনি লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর আর্থিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের “অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি কৌশল”-এর অংশ। তাঁর ভাষায়, ইরানের ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা সাধারণ জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতেই বেশি সক্রিয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করেছে, ইরান হরমুজ প্রণালীকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তাদের রাজস্ব ও তেল রপ্তানি সক্ষমতা সীমিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের পর ইরান কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও নৌপথে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত