ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইরান কি হরমুজ প্রণালিতে টোল বসাতে পারে, আন্তর্জাতিক আইনে কী বলছে

২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১২:৪৯:৩২

ইরান কি হরমুজ প্রণালিতে টোল বসাতে পারে, আন্তর্জাতিক আইনে কী বলছে

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz-এ জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের পরিকল্পনা ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরান এই কৌশলগত জলপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে চাইছে, তবে প্রশ্ন উঠছে—এটি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এটি ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। বিশ্বে মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে হয়, ফলে এর ওপর যেকোনো সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আইনগতভাবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয় United Nations Convention on the Law of the Sea (ইউএনক্লস) দ্বারা। এই সনদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রণালিগুলো দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে “ট্রানজিট প্যাসেজ” নামে একটি অধিকার রয়েছে। এর অর্থ হলো—যেকোনো দেশের জাহাজ বাধাহীনভাবে এসব প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে, যতক্ষণ না তারা নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

এই নিয়ম অনুযায়ী, উপকূলবর্তী দেশগুলো কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারলেও সরাসরি টোল বা ফি আরোপ করে চলাচল বাধাগ্রস্ত করা সাধারণত আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হয়। কারণ, এতে অবাধ চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।

তবে বিষয়টি এতটা সরলও নয়। ইরান যুক্তি দিচ্ছে, তারা ইউএনক্লস পুরোপুরি অনুমোদন করেনি, তাই সব বিধান মানতে বাধ্য নয়। অন্যদিকে, অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই সনদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখন প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন না করলেও দেশগুলোকে তা মানতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে যদি ইরান টোল আরোপ করে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক বিরোধে রূপ নিতে পারে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য International Court of Justice বা সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনালের মতো সংস্থায় নেওয়া যেতে পারে, তবে এসব সংস্থার রায় বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করার শক্তিশালী ব্যবস্থা নেই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের ইরানের উদ্যোগ আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কিত এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা বড় ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ ও প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত