ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৬ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে যে পরীক্ষা

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৬ এপ্রিল ১৫ ০০:১০:৫০

১৬ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে যে পরীক্ষা

দীর্ঘ ১৬ বছরের বিরতির পর আবারও সরাসরি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে দেশে। আগামীকাল বুধবার থেকে সারাদেশে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের ৬১ জেলায় সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে। পার্বত্য তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এ উৎসবের কারণে পরীক্ষা দুই দিন পরে শুরু হবে। প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা বিষয়ে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া এবার পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রবেশপত্র নিয়ে নির্ধারিত সময়ে হলে উপস্থিত হওয়া, মোবাইল ফোন ও ক্যালকুলেটরসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ থাকা, এবং উত্তরপত্রে নির্ধারিত জায়গার বাইরে কোনো তথ্য না লেখা। উত্তরপত্রে অবশ্যই কক্ষ পরিদর্শকের স্বাক্ষর থাকতে হবে, অন্যথায় তা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া পরীক্ষার সময় কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন, একে অপরের সঙ্গে কথা বলা, প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আলাদা খসড়া কাগজ দেওয়া হবে না, বরং উত্তরপত্রেই খসড়া লিখে তা কেটে দিতে হবে। পরীক্ষার প্রথম এক ঘণ্টা শেষ হওয়ার আগে কেউ হল ত্যাগ করতে পারবে না এবং পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র জমা দিয়ে তবেই বের হতে হবে।

পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল গণিত, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পার্বত্য তিন জেলায় সংশোধিত রুটিন অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন পর আবারও পৃথকভাবে বৃত্তি পরীক্ষা চালুর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন ধাপ শুরু হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। এতে মেধাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ