ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে নতুন মোড়,ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে পাকিস্তান

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১১:৫৬:২৯

বিশ্বকাপে নতুন মোড়,ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে পাকিস্তান

প্রায় দশ দিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট প্রত্যাহার করা হয়। ফলে বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান মহারণ আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে একাধিক দফা আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই ম্যাচ আয়োজনকে বিশ্বকাপের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেন বদলাল পাকিস্তানের অবস্থান?

পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক আইসিসি সদস্য দেশ পিসিবিকে ম্যাচ বয়কট না করার অনুরোধ জানায়। ম্যাচটি না হলে অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়। এই প্রেক্ষিতেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়,“বহুপাক্ষিক আলোচনায় প্রাপ্ত ফলাফল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার জাতীয় দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নির্ধারিত ম্যাচে অংশগ্রহণের অনুমতি দিচ্ছে। ক্রিকেটের চেতনা রক্ষা এবং বৈশ্বিক এই খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।”

আইসিসির প্রতিক্রিয়া

আইসিসি এই আলোচনাকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সততা, নিরপেক্ষতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে ক্রিকেটের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আইসিসি আরও নিশ্চিত করেছে, সব সদস্য দেশ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত শর্তাবলি মেনে চলবে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফল করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গও আলোচনায়

এই সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় বাংলাদেশের ওপর কোনো জরিমানা না করার আইসিসির সিদ্ধান্ত। পাকিস্তান শুরুতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের অনুপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করেছিল। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একে আইসিসির ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

ইএসপিএনক্রিকইনফো সূত্রে জানা যায়, আলোচনার সময় পিসিবি আইসিসির রাজস্ব বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য করার প্রস্তাবও তোলে। যদিও সরকার বা আইসিসি—কেউই বিষয়টি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উল্লেখ করেনি। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের কোনো শর্ত ছিল—এমন জল্পনাও পিসিবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।

পর্দার আড়ালের কূটনীতি

দুই সপ্তাহ আগে মহসিন নাকভি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েই প্রশ্ন তোলার পর থেকেই পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছিল। পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে না খেলার অবস্থান ঘোষণা করার পর সেই আলোচনা আরও তীব্র হয়।

রবিবার লাহোরে নাকভি, বিসিবি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এবং আইসিসি পরিচালক ইমরান খাজার বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পায়। এর পরপরই আইসিসি বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে এবং বিসিবিকে ২০২৮–২০৩১ চক্রে একটি অতিরিক্ত আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দেয়।

সবশেষে বিসিবি পিসিবিকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এর পরই পাকিস্তান সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণায় সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ