ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

জুমার দিনের ফজিলত ও দোয়া কবুলের গোপন রহস্য

২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৫:৩৬:৩৮

জুমার দিনের ফজিলত ও দোয়া কবুলের গোপন রহস্য

ইসলামে জুমার দিন বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্বের অধিকারী। পবিত্র কোরআনে এ দিন নামাজের আজান হলে সব কাজ ছেড়ে আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুমার দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ফজিলত, গুরুত্বপূর্ণ আমল ও দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। নামাজ শেষ হলে জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো।” (সুরা জুমা: ৯–১০)

হাদিসে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জমিনে পাঠানো হয়েছে এবং এই দিনেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ দিনেই রয়েছে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় এবং কিয়ামতও সংঘটিত হবে এই দিনেই। (ইবনে মাজাহ)

জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো যথাযথ প্রস্তুতির সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, পরিচ্ছন্ন হয়ে সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায়, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে—তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন। (সহিহ বুখারি)

এছাড়া জুমার দিন গোসল করা ও আগে আগে মসজিদে যাওয়ার ব্যাপক সওয়াব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন আগেভাগে মসজিদে গিয়ে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছর নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব দেওয়া হয়। (আবু দাউদ)

জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা কবুল করেন। অধিকাংশ আলেমের মতে, এই সময়টি আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত। (আবু দাউদ)

এ ছাড়া জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করে, তা পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার জন্য নূর হয়ে থাকে। (সহিহ তারগিব)

জুমার দিনে নবী করিম (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার বিশেষ নির্দেশ রয়েছে। এ দিনে পাঠ করা দরুদ সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পেশ করা হয় বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

সুতরাং জুমার দিনকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা, বেশি বেশি ইবাদত, দরুদ ও দোয়ায় মশগুল থাকা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত