ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

অপমান আর অর্থনীতি সব খুলে বলল বিসিবি

২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ০৯:৩৮:৩২

অপমান আর অর্থনীতি সব খুলে বলল বিসিবি

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বড় ধরনের অবস্থান নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নেই—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বোর্ড। শুধু তাই নয়, ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স, ক্ষতিপূরণ এবং আইসিসি থেকে পাওয়া অর্থ নিয়েও একেবারে খোলামেলা হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

বিসিবির এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বোর্ডের ভাষায়, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে খেলাকে নিরাপদ বলা যায় না।” বিশেষ করে বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে সাম্প্রতিক অপমানজনক আচরণ ও সামাজিক মাধ্যমে চালানো অপপ্রচার বিসিবির দৃষ্টি এড়ায়নি। বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পুরো দলকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না।

বিসিবি আরও স্পষ্ট করে দেয়, সরকারি অনাপত্তিপত্র (NOC) ও সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো খেলোয়াড়কে বিদেশে পাঠানো হবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই অংশগ্রহণের প্রশ্ন ওঠে না।

পারফরম্যান্স না হলে ক্ষতিপূরণ কেন?

সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে আরেকটি সংবেদনশীল বিষয়—ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা। বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন,“আমরা বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছি। কিন্তু বড় কোনো শিরোপা কি এসেছে? যদি দীর্ঘদিন সাফল্য না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে চুক্তি করার চিন্তাও আসতে পারে।”

এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে ‘পারফরম্যান্স বেজড কন্ট্রাক্ট’ চালু হতে পারে, যেখানে ফলাফলের সঙ্গে সরাসরি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত থাকবে।

আইসিসির টাকা নিয়ে ভুল ধারণার অবসান

আইসিসি থেকে বাংলাদেশ কত টাকা পায়—এই নিয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছে বিসিবি। বোর্ড জানায়,বাংলাদেশ বছরে ২৭ মিলিয়ন ডলার পায়—এই তথ্য সঠিক নয়। প্রকৃত অঙ্ক ২০.৪ মিলিয়ন ডলার। বাকি প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার আইসিসির রিজার্ভ ফান্ডে জমা থাকে, যা কয়েক বছর পর সমন্বয় করা হয়। বিশ্বকাপে খেলা বা না খেলার সঙ্গে এই অর্থের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেও জানানো হয়।

চূড়ান্ত বার্তা

সবশেষে বিসিবি জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, কিন্তু কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভেন্যু পরিবর্তনসহ সব বিকল্প ভাবা হবে। বোর্ড সভা ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ব ক্রিকেটে এই অবস্থান নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন অপেক্ষা—আইসিসি ও আয়োজক দেশ এই দাবির জবাবে কী পদক্ষেপ নেয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ