ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুখবর এলো শিক্ষকদের জন্য

২০২৫ ডিসেম্বর ২২ ১৪:৩৮:৩৫

সুখবর এলো শিক্ষকদের জন্য

বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এলো। শিক্ষকদের সাংবাদিকতা, আইন পেশা বা ক্ষুদ্র ব্যবসার মতো ১১টি নির্দিষ্ট পেশায় যুক্ত হওয়ার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও শিক্ষক সমাজের প্রতিবাদের মুখে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা তার দেওয়া ওই বিতর্কিত নোটিশটি বাতিল করতে বাধ্য হলেন।

নোটিশ প্রত্যাহার ও দুঃখ প্রকাশ:গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগের নোটিশটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত ওই চিঠিতে কিছু ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’ ছিল, যার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে ওই চিঠিটিকে পুরোপুরি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিতর্কিত সেই নির্দেশনায় যা ছিল:এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর কালকিনি উপজেলার পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেহেতু রাষ্ট্রীয় আর্থিক সুবিধা পান, তাই তাদের শিক্ষকতা ছাড়া অন্য কোনো লাভজনক পেশায় যুক্ত হওয়া নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ। সেই তালিকায় ১১টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল—

১. বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সাংবাদিকতা।

২. আইন পেশা।

৩. কোচিং সেন্টার পরিচালনা বা সেখানে পড়ানো।

৪. কিন্ডারগার্টেন বা কেজি স্কুল পরিচালনা।

৫. শিক্ষা বিষয়ক প্রকাশনা বা বই ব্যবসায় যুক্ত হওয়া।

৬. হজ এজেন্ট হিসেবে কাজ করা।

৭. কাজি বা ঘটকালি করা।

৮. ক্ষুদ্র ব্যবসা বা টং দোকান চালানো।

৯. ঠিকাদারি বা নির্মাণ ব্যবসা।

১০. মসজিদের পূর্ণকালীন ইমামতি বা খতিবের দায়িত্ব পালন।

১১. রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিশেষ সহকারী বা চাটুকার হিসেবে নিয়োজিত থাকা।

কেন এই নোটিশ নিয়ে তোলপাড়?

শিক্ষকদের দাবি ছিল, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যে বেতন পান, তা দিয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে জীবন নির্বাহ করা কঠিন। এমন অবস্থায় ক্ষুদ্র ব্যবসা বা লেখালেখির মতো কাজে বাধা দেওয়া শিক্ষকদের সম্মানহানি ও ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী। এছাড়া সরকারি নীতিমালার বাইরে এমন মনগড়া নিষেধাজ্ঞা কোনো উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন মহলে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে কর্তৃপক্ষ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

নোটিশটি প্রত্যাহারের ফলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সম্মান ও অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকল বলে মনে করছেন শিক্ষক নেতারা। তবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের গুণমান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের সচেষ্ট থাকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

২০মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে, LIVE

২০মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে, LIVE

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ... বিস্তারিত