ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

“অনেকে ভাবে, আমি নাকি দলে থাকার মতো নই”—হৃদয়ের খোলামেলা স্বীকারোক্তি

২০২৫ নভেম্বর ২৮ ০৯:২৭:১৪

“অনেকে ভাবে, আমি নাকি দলে থাকার মতো নই”—হৃদয়ের খোলামেলা স্বীকারোক্তি

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ড সিরিজের প্রথম টি–টোয়েন্টি যেন হতাশার আরেক গল্প লিখল। ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। পুরো ২০ ওভার খেলেও দলীয় সংগ্রহ থামে ১৪২ রানে, ফলে ৩৯ রানের পরাজয় সঙ্গী হয় লাল–সবুজের।

এই ব্যর্থতার দিনে একাই লড়াই করে যান তাওহীদ হৃদয়। ৫০ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেও তিনি দলের হার ঠেকাতে পারেননি। বাংলাদেশ দলের বাকি ব্যাটারদের মোট রান যেখানে ৪৯—সেখানে হৃদয়ের ব্যাটিংই ছিল একমাত্র উজ্জ্বল দিক। ম্যাচ শেষে আক্ষেপ ঝরে পড়ে তাঁর কণ্ঠে।

হৃদয়ের মতে, ব্যাটিং অর্ডারে যেকোনো জায়গায় নামলেও ক্রিকেট একক কোনো খেলা নয়—এটি পুরোপুরি দলগত প্রয়াসের বিষয়। তিনি বলেন, একটি বড় পার্টনারশিপ পেলেই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে পারত। জাকিরের সঙ্গে তাঁর জুটিও যদি ৭০–৮০ রানের মতো বড় হতো, তবে ম্যাচে বাংলাদেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় থাকতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় দলে তিনে নেমে আজ আস্থা ফেরানো ইনিংস খেললেও হৃদয় জানালেন এক বাস্তবতা—“দল আমার একার না। ওপরে খেলার মতো জায়গা এখন নেই।” নিজের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা শুনতে হয়—এমন ইঙ্গিতও দেন তরুণ ব্যাটারটি।

তাঁর কথায় ছিল কিছুটা কষ্ট, কিছুটা স্বস্তি—“অনেকে ভাবেন, আমি টিমে থাকার মতো না। ভাই, আমি যেখানে আছি, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। যারা খেলছে, ওরা টাচে আছে, পারফর্ম করছে। আফসোস নেই—জীবন এমনই। যেখানে সুযোগ পাই, দলকে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করি।”

ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠা ক্ষুদ্র সান্ত্বনা হলেও দলের সামগ্রিক ব্যর্থতায় হৃদয়ের ইনিংস যেন আক্ষেপে ছাপা পড়ে যায়। তবে তরুণ ব্যাটারের আত্মবিশ্বাসী মনোভাব অনেককেই নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে—আগামী ম্যাচগুলোয় তিনে বা চারেও তাঁকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখার প্রত্যাশা করছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ