ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বোর্ডের অভ্যন্তরীণ চাপ? বিশ্বকাপের আগে কনি সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলেন লিটন দাস

২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১৫:০৩:০৯

বোর্ডের অভ্যন্তরীণ চাপ? বিশ্বকাপের আগে কনি সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলেন লিটন দাস

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে সফল সময়গুলোর একটি এসেছে লিটন দাসের নেতৃত্বে। একের পর এক সিরিজ জয়, এশিয়া কাপের ফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া—সবই প্রমাণ করেছিল তার নেতৃত্ব দলের ওপর কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে লিটন এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে পুরো টিম ম্যানেজমেন্টে। তার ভাষা ও ইঙ্গিত স্পষ্ট—অধিনায়কত্ব ছাড়ার চিন্তা তার মাথায় ঘুরছে।

টানা সফলতার পরও নেতৃত্ব নিয়ে অস্থিরতা

লিটন আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব পান চলতি বছরের শুরুতে, তবে এর আগেই তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন সিরিজে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে ক্লিন সুইপ, পাকিস্তান–শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দাপুটে জয়, নেদারল্যান্ডস সিরিজে শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সব মিলিয়ে দলটি বিশ্বকাপের আগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল।

এমন সময়ে হঠাৎই সামনে আসে বড় ধাক্কা—অধিনায়কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ!

অধিনায়কের মতামত ছাড়াই দল ঘোষণা?

আয়ারল্যান্ড সিরিজে শামীম হোসেনকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লিটন স্পষ্ট করে জানান, শামীমকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে কিছু না জানিয়েই। অথচ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় শামীমকে নিয়ে বড় ভিশন ছিল তার।

লিটনের ভাষায়—“শামীম থাকলে ভালো হতো। কিন্তু এটা আমার সিদ্ধান্ত নয়। নির্বাচকেরা বিনা নোটিশেই তাকে বাদ দিয়েছেন।”

এর জবাবে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপু আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন—“অধিনায়কের অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই। আমরা তাদের মতামত নিয়েছি, কিন্তু দল দেওয়া হবে আমাদের সিদ্ধান্তে।”

এই মন্তব্যই বড় প্রশ্ন তুলেছে: অধিনায়ক যদি দল গঠনের ক্ষমতাই না পান, তবে নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার মানে কোথায়?

লিটনের অসহায়তা ফুটে উঠল কথায়

লিটন জানালেন, বোর্ড ও নির্বাচকদের পক্ষ থেকে তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—“যে দল দেওয়া হবে, সেই দল নিয়েই মাঠে খেলতে হবে। কোন খেলোয়াড় চাই বা চাই না—এটা নিয়ে আমার কথা বলার সুযোগ নেই।”

বিশ্ব ক্রিকেটে যেখানে অধিনায়ক, কোচ ও নির্বাচক একত্রে সিদ্ধান্ত নেন, সেখানে বাংলাদেশে অধিনায়ককে পুরোপুরি সিদ্ধান্ত-বহির্ভূত রাখা নতুন বিতর্কই তৈরি করেছে।

অধিনায়কত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত

সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন লিটন। যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়—এভাবে হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে তিনি অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাবেন কি না?

তার উত্তর সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অর্থবহ:

“ওটা পরে দেখা যাবে।”

এমনকি বিশ্বকাপ নিয়েও তার মন্তব্য আরও সরাসরি—

“বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমি থাকি কি না—দেখেন!”

অর্থাৎ, বিশ্বকাপের আগেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ক্রিকেটে নতুন ঝড়ের আশঙ্কা

বিশ্বকাপের আগে নেতৃত্বে পরিবর্তন দলকে বড় অস্থিরতার মধ্যে ফেলে দিতে পারে। লিটন–বোর্ড সম্পর্কের এই টানাপোড়েন এখন ক্রিকেটভক্তদের মাঝেও শঙ্কা তৈরি করেছে। কেননা, লিটনের অধীনে দলটি ছিল খুবই ইতিবাচক গতিতে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ ক্রিকেট আবারও অস্থিতিশীলতার গন্ধ পাচ্ছে—বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ