ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের গা“লি দেয়ায় দর্শকদের নিয়ে যা বললেন আসিফ

২০২৫ নভেম্বর ০১ ১৫:৪০:২৭

বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের গা“লি দেয়ায় দর্শকদের নিয়ে যা বললেন আসিফ

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং ভক্তদের তীব্র সমালোচনার পর বোর্ডের একজন পরিচালক দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘স্পোর্টিং’ মনোভাব বজায় রাখা অত্যাবশ্যক, এবং যারা মাঠে এসে দলের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করেন, তাদের উচিত ঘরে বসে থাকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ‘ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের’ নেতিবাচক মন্তব্য ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ফ্যানদের আচরণ ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

পরিচালক বলেন, "ফ্যানরা টিকিট কেটে, দূরত্ব পার হয়ে, ছুটি নিয়ে মাঠে আসে, কিন্তু দলের খারাপ পারফরম্যান্সে মন ভেঙে চলে যায়।" তিনি স্বীকার করেন, এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন গালিগালাজ হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে, তবে এটি টেকসই নয়। তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নিজেরা ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ মনে করে মন্তব্য করছেন, যা সমাজে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে যারা খেলা বোঝেন না, তারা গোল চিৎকার করে নিজেদের ক্রিকেট জ্ঞান প্রদর্শন করেন, যা ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর।

অবকাঠামো ও ক্রিকেটের অনিয়মিত ধারা

পরিচালক বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে ‘অনিয়মিত খেলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ২০ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ১১ জন ক্রিকেটার রয়েছে এবং বিপিএল ছাড়া দেশে অন্য কোনো টি-টোয়েন্টি লীগ বা টুর্নামেন্ট হয় না। টেস্ট ক্রিকেটেও যথেষ্ট খেলা হয় না। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মিডিয়ার মনোযোগ পাচ্ছে না; একসময় দুই পাতা বরাদ্দ থাকলেও এখন তা অর্ধ-পাতা মাত্র।

বর্ষাকালীন প্রতিকূলতার কারণে সিনথেটিক টার্ফ তৈরি করা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বোর্ড দেশের ৬৪টি জেলায় একাডেমি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে, যা স্থানীয় স্তরের ক্রিকেটকে পুনরুজ্জীবিত করবে।

উন্নয়ন ও প্রত্যাশা

পরিচালক বলেন, দর্শকরা ভালো পারফরম্যান্স আশা করেন, কিন্তু অনিয়মিত ফরম্যাট এবং অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া চ্যালেঞ্জিং। তিনি স্বীকার করেন, দল হারলে মন খারাপ হয়, তবে টি-টোয়েন্টি যেন অত্যধিক আবেগাপ্লুত হয়ে না দেখায়। তার মতে, দেশের উন্নয়ন মূলত টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট ক্রিকেটের মধ্যে নিহিত। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও টেস্ট ম্যাচের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া জরুরি, এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও জানান, বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের ক্রিকেটের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং উন্নয়নের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। “জিতলে ভালো লাগতো, হেরে গেছি, খারাপ লাগছে,” বলেন পরিচালক। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সমস্যার মূল সনাক্তকরণ এবং ইতিবাচক উন্নয়ন প্রক্রিয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ