ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

এনসিএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারি! জাতীয় দলের তারকাকে ম্যাচ বিক্রির প্রস্তাব

২০২৫ অক্টোবর ২৭ ১১:৩৮:৪৫

এনসিএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারি! জাতীয় দলের তারকাকে ম্যাচ বিক্রির প্রস্তাব

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও ফিক্সিংয়ের অন্ধকার ছায়া! বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বহুবার এমন অভিযোগ উঠলেও, এবার সেই কালো হাত ছুঁয়েছে ঘরোয়া এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকেও।

জাতীয় দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার নাঈম ইসলাম, যিনি দেশের হয়ে ৮টি টেস্ট, ৫৯টি ওয়ানডে ও ১০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন, এবার নিজেকে জড়িয়ে পেলেন এক ভয়ংকর ঘটনার সঙ্গে — তাকে সরাসরি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে!

তবে প্রশংসনীয়ভাবে, নাঈম ইসলাম কোনো সময়ক্ষেপণ না করেই বিষয়টি জানিয়ে দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি দমন ইউনিট (ACU)-কে। ফলে জুয়াড়িরা এবার সফল হতে পারেনি।

কীভাবে ঘটল ঘটনাটি?

ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ সেপ্টেম্বর, রংপুর বিভাগ ও ঢাকা বিভাগের ম্যাচে। নিয়মমাফিক ম্যাচের আগে নিজের মোবাইল ফোন জমা দিয়েছিলেন নাঈম ইসলাম।

ম্যাচ শেষে ফোন হাতে নিয়ে তিনি দেখেন, একটি অপরিচিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক নম্বর থেকে সন্দেহজনক বার্তা এসেছে। বার্তাটিতে প্রেরকের নাম ছিল ‘অমিত এমজেঠিয়া’, যিনি ‘ডেভিল’ নামে পরিচিত। তিনি নাঈমকে ম্যাচের একটি ওভার ‘নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার’ প্রস্তাব দেন — অর্থাৎ স্পট ফিক্সিংয়ের চেষ্টা করেন।

সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ জানান নাঈম

সন্দেহজনক সেই বার্তা দেখেই নাঈম তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানান দলের ম্যানেজার তারেক আহমেদ রুবেনকে। এরপর রুবেন সরাসরি যোগাযোগ করেন উপস্থিত দুর্নীতি দমন ইউনিটের (ACU) কর্মকর্তার সঙ্গে।

এখন বিষয়টি নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

বিসিবি সূত্রের বক্তব্য

বিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাঈম ইসলামের সততা ও দ্রুত পদক্ষেপই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বড় এক কেলেঙ্কারি থেকে বাঁচিয়েছে। একইসঙ্গে আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় করে বার্তাপ্রেরকের উৎস চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

সততার পুরস্কার

রংপুর দল সম্প্রতি এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নাঈম ইসলামের সচেতন পদক্ষেপ ও সততা এখন দেশের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ