ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সুখবর : ৫০ বছরের প্রথা ভাঙল সৌদি

২০২৫ অক্টোবর ২১ ১৫:১৬:৪১

প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সুখবর : ৫০ বছরের প্রথা ভাঙল সৌদি

সৌদি আরব তাদের দীর্ঘ ৫০ বছরের পুরনো ‘কাফালা’ (পৃষ্ঠপোষকতা) শ্রম স্পন্সরশিপ ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বিদেশি শ্রমিক সরাসরি উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। উপকৃতদের মধ্যে অধিকাংশই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কর্মী, যার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের শ্রমিকরাও রয়েছেন। খবর– টাইমস অব ইন্ডিয়া।

দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কাফালা ব্যবস্থার অধীনে কোনো প্রবাসী কর্মীর চাকরি, আবাসন ও চলাফেরা ছিল তার নিয়োগকর্তা বা “কাফিল”-এর অধীনে। এতে শ্রমিকদের ওপর নানা রকম নিয়ন্ত্রণ থাকায় তারা সহজে চাকরি পরিবর্তন, দেশ ত্যাগ বা ভিসা নবায়নের সুযোগ পেতেন না। এই ব্যবস্থাকেই অনেক মানবাধিকার সংস্থা একধরনের ‘শ্রম দাসত্ব’ বলে উল্লেখ করে আসছিল।

নতুন সংস্কারে সৌদি সরকার কাফালা ব্যবস্থার জায়গায় চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান মডেল চালু করেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এখন থেকে কোনো প্রবাসী কর্মী তার বর্তমান স্পন্সরের অনুমোদন ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন, এক্সিট ভিসা ছাড়াই দেশ ত্যাগ করতে পারবেন এবং আইনি সহায়তাও পাবেন।

এই পরিবর্তন সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পের অংশ, যার লক্ষ্য দেশটির অর্থনীতিকে আধুনিকীকরণ করা এবং বিদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ বৃদ্ধি করা। সৌদি সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগ শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য আরও মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

শ্রম বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শ্রম অধিকারে এটি এক ঐতিহাসিক সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সৌদি আরব শুধু তার শ্রমনীতি আধুনিক করছে না, বরং মানবাধিকারের দিক থেকেও এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করছে।

উল্লেখ্য, কাফালা ব্যবস্থা প্রথম চালু হয় ১৯৫০-এর দশকে। এর অধীনে কোনো কর্মীর আইনি অবস্থান তার নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকত। ফলে নিয়োগকর্তারা শ্রমিকদের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারতেন—চাকরি পরিবর্তন, দেশ ত্যাগ এমনকি আইনি প্রতিকার চাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের অনুমতি দরকার হতো। বহু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বছরের পর বছর ধরে এই ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে, কারণ এটি শোষণ, নির্যাতন ও জোরপূর্বক শ্রমের পথ তৈরি করেছিল।

নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই অমানবিক প্রথার অবসান ঘটাল সৌদি আরব, যা প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে মূল তথ্য:

সৌদি আরব কাফালা শ্রম স্পন্সরশিপ ব্যবস্থা বাতিল করেছে

উপকৃত হবেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বিদেশি কর্মী

চাকরি পরিবর্তন, দেশত্যাগ ও ভিসা নবায়নে আর নিয়োগকর্তার অনুমতি লাগবে না

এটি সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে শ্রম অধিকারের নতুন দিগন্ত

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত