ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

চরম দু:সংবাদ : বেতন নিয়ে সহকারী শিক্ষকদের জন্য বড় ধাক্কা

২০২৫ অক্টোবর ২১ ০৭:০৪:৩৭

চরম দু:সংবাদ : বেতন নিয়ে সহকারী শিক্ষকদের জন্য বড় ধাক্কা

প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি—সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন—নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসেছে জাতীয় পে-কমিশন। সোমবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলানগরের পে-কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষক সংগঠনের নেতারা একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন।

বৈঠকটি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পে-কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। আলোচনার শুরুতেই শিক্ষক নেতারা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত ১১তম গ্রেডের প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানান।

তবে কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, প্রস্তাবটি তাদের কাছে থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রটি মূলত সরকারি সার্ভিস কমিশনের আওতাভুক্ত। তিনি বলেন, “পে-কমিশন প্রস্তাবটি নোট আকারে বিবেচনায় নিয়েছে, তবে বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত।”

শিক্ষক প্রতিনিধিরা বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবও দেন। তারা ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১২টিতে আনার প্রস্তাব রাখেন এবং সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের অনুপাত দাঁড়াবে ১:৪।

এ ছাড়া তারা চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার, শিক্ষা ভাতা এক সন্তানের জন্য ৫ হাজার এবং দুই সন্তানের জন্য ১০ হাজার টাকা করার দাবি জানান। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা এলাকাভেদে ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখেন।

শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, বর্তমানে গ্রামীণ পর্যায়ের শিক্ষকরা যাতায়াত ভাতায় বঞ্চিত। তাই সকল স্তরের কর্মচারীদের জন্য ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা চালু করা জরুরি।

তারা অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের ৭(খ) অনুচ্ছেদের ভুল ব্যাখ্যার কারণে শিক্ষকরা উচ্চতর গ্রেড সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তিনটি টাইমস্কেল পুনরায় চালুর দাবি তোলেন তারা।

বৈঠকে টিফিন ভাতার প্রসঙ্গ উঠলে শিক্ষকরা জানান, তাদের দৈনিক টিফিন ভাতা মাত্র ৬ টাকা ৬৬ পয়সা—যা দিয়ে এক কাপ চা পর্যন্ত কেনা সম্ভব নয়। এই তথ্য শুনে কমিশনের সদস্যরা বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া শতভাগ পেনশন, শতভাগ আনুতোষিক সুবিধা, প্রতি দুই বছর অন্তর শ্রান্তি ভাতা, নববর্ষ ভাতা ৫০ শতাংশ এবং সকল শিক্ষকদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, “আমরা শিক্ষকদের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেছি। বর্তমান বাজারদর ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় পরিবারে ছয় সদস্যের জীবনযাত্রার ব্যয় অনুযায়ী বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছি।”

তবে পে-কমিশনের পক্ষ থেকে ‘সীমিত সম্ভাবনা’ উল্লেখ করার কারণে সহকারী শিক্ষকরা হতাশ। সংগঠনের সভাপতি বলেন, “যদি প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগ না নেয়, তবে আমাদের সামনে কঠোর আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।”

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত