ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘ফ্রি ভিসা’ নিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য, এইমাত্র পাওয়া নতুন খবর

২০২৫ অক্টোবর ১৯ ১৮:৫৮:৫২

‘ফ্রি ভিসা’ নিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য, এইমাত্র পাওয়া নতুন খবর

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’ এখন এক ভয়াবহ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ নয়, বরং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন কর্মসূচি (ওকাপ) পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ফ্রি ভিসা’ বাণিজ্য ও বিদেশগমন ব্যয়ের কারণে প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রায় ০.৫৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গবেষণার মূল তথ্য

রোববার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ওকাপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “‘ফ্রি ভিসা’ আসলে নামেই ফ্রি। এটি না বৈধ, না বিনামূল্যে—বরং এক ধরনের শোষণমূলক বাণিজ্য। এতে অভিবাসীরা ঋণের ফাঁদে পড়ছেন, পরিবারগুলো বিপাকে পড়ছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে।”

গবেষণায় ১,৮৪১ জন অভিবাসী কর্মীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশ ‘ফ্রি ভিসা’ ব্যবহার করে বিদেশে গেছেন, আর ৪৯ শতাংশ বৈধভাবে অনুমোদিত ভিসায় গেছেন।বিশেষত উপসাগরীয় দেশগুলোতে ২০২২ সালে অর্ধেকের বেশি অভিবাসী কর্মী ‘ফ্রি ভিসা’ নিয়ে গিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

অতিরিক্ত ব্যয়ের চিত্র

সরকারি ফি থেকে তিন থেকে ছয় গুণ বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে ‘ফ্রি ভিসা’ প্রার্থীদের।উদাহরণ হিসেবে গবেষণায় বলা হয়—

কুয়েতে সরকার নির্ধারিত খরচ ১ লাখ ৬ হাজার টাকা, কিন্তু ‘ফ্রি ভিসা’তে এই ব্যয় দাঁড়ায় ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকায়।

এমনকি সাধারণ কাজের ভিসার জন্যও খরচ হচ্ছে গড়ে ৬ লাখ টাকার বেশি।সৌদি আরব, ওমান, কাতার ও দুবাইতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।

বিদেশে পৌঁছানোর পরও কর্মীদের অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়—ওয়ার্ক পারমিট, নতুন চাকরি পাওয়া, খাবার ও থাকার খরচসহ গড়ে ৭ লাখ ২২ হাজার টাকারও বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে একজন কর্মীকে।

ওকাপের পরিসংখ্যান

ওকাপের তথ্য অনুযায়ী—

৫৭% কর্মী বিনা খরচে ওয়ার্ক পারমিট পেলেও,

২১% কর্মীকে গড়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা,

এবং ৪% কর্মীকে চাকরি পেতে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতামত

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন,

“এই গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে। ‘ফ্রি ভিসা’ বাণিজ্যের প্রকৃত প্রভাব বোঝা ও তা রোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে।”

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন—

রাহনুমা সালাম খান, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)

শ্রুতি ইশিতা, মাইগ্রেশন পলিসি ও সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের প্রধান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)

ড. কাজী মাহমুদুর রহমান, অধ্যাপক, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বায়রার প্রশাসক মো. আশরাফ হোসেন, সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের নাজিয়া হায়দার, ওকাপের নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এ এ মামুন নাসিম।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত