ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

যে দেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেলেন বাংলাদেশের তরুণী সাদিয়া

মুস্তাকিম
মুস্তাকিম

জুনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ অক্টোবর ১৪ ২৩:১১:০৩

যে দেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেলেন বাংলাদেশের তরুণী সাদিয়া

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের আসনে বসেছিলেন বাংলাদেশের এক তরুণী! পঞ্চগড়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাদিয়া একদিনের জন্য এই সম্মানজনক দায়িত্ব পান আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচির আওতায়। গত শনিবার (১১ অক্টোবর) এই অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হন তিনি।

সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও নারী সমতার পক্ষে কাজ করে আসা সাদিয়া দীর্ঘদিন ধরেই কিশোরীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তার কাজের মাধ্যমেই ফুটে ওঠে—পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্য কিশোরীদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

এ বছর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ছিল “The girl I am, the change I lead: Girls on the frontlines of crisis”, আর জাতীয় প্রতিপাদ্য— “আমি কন্যাশিশু—স্বপ্ন গড়ি, সাহসে লড়ি, দেশের কল্যাণে কাজ করি।” এই প্রতিপাদ্য মেয়েদের ক্ষমতায়নের বার্তা আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ জানিয়েছে, ‘গার্লস টেকওভার’ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হলো তরুণীদের নেতৃত্বের আসনে প্রতীকীভাবে বসানো—যাতে তারা আত্মবিশ্বাস অর্জন করে, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ভেঙে নিজেরাই হয়ে উঠতে পারে পরিবর্তনের মুখপাত্র।

রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন শেষে সাদিয়া বলেন,

“এই অভিজ্ঞতা আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে নিজের ও অন্য মেয়েদের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রাখতে। আমি চাই, আমাদের সমাজে মেয়েরা সমান সুযোগ পাক—যেখানে স্বপ্ন দেখা অপরাধ নয়, বরং অনুপ্রেরণা।”

বাংলাদেশে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এইচ ই হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন বলেন,

“সাদিয়ার নেতৃত্ব দেখে আমরা গর্বিত। তার মতো তরুণীরা যদি এগিয়ে আসে, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবেই। নারী শিক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তার সচেতনতা উদ্যোগ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”

টেকওভার চলাকালে সাদিয়া ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্বে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

আলভী /

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত