ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

“সতর্কবার্তা প্রবাসীদের জন্য: ওমান প্রবাসীরা সাবধান, শেষ হতে পারে জীবনের সব স্বপ্ন

২০২৫ অক্টোবর ১০ ২৩:১০:৪২

“সতর্কবার্তা প্রবাসীদের জন্য: ওমান প্রবাসীরা সাবধান, শেষ হতে পারে জীবনের সব স্বপ্ন

দুকুমের মরুভূমি এলাকায় দুই দিন আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আটজন বাংলাদেশি প্রবাসী। দুর্ঘটনার সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য একজন প্রবাসী নিজের মোবাইলে ধারণ করে ফেসবুকে শেয়ার করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই এক মুহূর্তের ভুলেই শেষ হয়ে গেল তার প্রবাসজীবন—গ্রেফতার করল রয়্যাল ওমান পুলিশ।

ওমানের আইন অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা বা দুর্ঘটনার দৃশ্য প্রচার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি শুধু নৈতিক অপরাধ নয়, বরং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই ওই প্রবাসীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়। এখন তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের জরিমানা, এমনকি আজীবনের জন্য ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

রয়্যাল ওমান পুলিশ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছে—“কোনো দুর্ঘটনা বা সংবেদনশীল ঘটনার ভিডিও না করে পুলিশকে খবর দিন। মৃতের মর্যাদা রক্ষা করা মানবিক দায়িত্ব এবং আইনি বাধ্যবাধকতা।”

ওমানের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে এই ঘটনায়। প্রবাসীরা বলছেন, একজন ভাই ভাইরাল হতে গিয়ে নিজের জীবনটাই হারালেন। পরিবার, বন্ধুবান্ধব—সব হারিয়ে এখন তিনি অপরাধী হিসেবে জেলে।

একজন প্রবাসীর জীবনের গল্প হয়তো এমনই—পরিবারের স্বপ্নপূরণের জন্য হাজার মাইল দূরে পরিশ্রম, ত্যাগ আর অপেক্ষা। কিন্তু এক মুহূর্তের আবেগ, এক ক্লিকের ভুলেই সব শেষ হয়ে গেল।

ওমানে থাকা সব প্রবাসীর প্রতি অনুরোধ—আপনার ফোনের ক্যামেরা যেন আপনার জীবনের শত্রু না হয়ে ওঠে।আইন মেনে চলুন, মানবিকতা বজায় রাখুন এবং নিজের ও দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখুন।যারা দুর্ঘটনার ভিডিও বা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, অনতিবিলম্বে সেটি মুছে ফেলুন—এই ভুল যেন আর কেউ না করেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত