ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

“সৌদি আরবে চাকরির নতুন যুগ: বাংলাদেশিদের জন্য খুলে গেলো নতুন দুয়ার”

২০২৫ অক্টোবর ০৮ ১৬:৫৪:২৭

“সৌদি আরবে চাকরির নতুন যুগ: বাংলাদেশিদের জন্য খুলে গেলো নতুন দুয়ার”

৫ দশকের কূটনৈতিক সম্পর্কের পর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে শ্রমবাজারে সহযোগিতায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো।

প্রথমবারের মতো দুই দেশ ‘সাধারণ কর্মী নিয়োগ’ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সৌদি শ্রমবাজারে নতুন যুগের সূচনা করবে।

গত সোমবার (৬ অক্টোবর) সৌদির রাজধানী রিয়াদে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল,আর সৌদি আরবের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মানব সম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রী আহমেদ বিন সোলাইমান আল-রাজী।

রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন খাতে দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার ও সুরক্ষা এখন থেকে আইনি কাঠামোর আওতায় থাকবে।এর ফলে বহুদিন ধরে চলা অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার নানা জটিলতা ও শোষণের সুযোগ কমবে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আসিফ নজরুল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল —

ইকামা নবায়নের দায়িত্ব নিয়োগকর্তাদের ওপর রাখার দাবি

দেশে ফিরতে ইচ্ছুক কর্মীদের দ্রুত এক্সিট ভিসা প্রদানের আহ্বান

সৌদি মন্ত্রী এই প্রস্তাবনাগুলোকে “গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত” বলে মন্তব্য করে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।তিনি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।

প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

১৯৭৬ সাল থেকে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণ শুরু হলেও এতদিন সাধারণ কর্মী নিয়োগে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছিল না।এর আগে কেবল ২০১৫ সালে গৃহকর্মী নিয়োগ এবং ২০২২ সালে দক্ষতা যাচাই সংক্রান্ত দুটি চুক্তি সই হয়েছিল।তবে এবারের এই ঐতিহাসিক চুক্তি সব ধরনের সাধারণ কর্মী নিয়োগের জন্য একটি সম্পূর্ণ আইনি কাঠামো তৈরি করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।এছাড়া সৌদি আরবে কর্মরত প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি এখন থেকে আরও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন,মিশন উপপ্রধান এস এম নাজমুল হাসান, এবং শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মাদ রেজায়ে রাব্বীসহ দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হলো—আর একই সঙ্গে উন্মুক্ত হলো বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজারে এক নতুন দিগন্ত।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত