ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান: শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ হাঁসি হাঁসলো কে

২০২৫ অক্টোবর ০৪ ০০:২২:৪২

বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান: শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ হাঁসি হাঁসলো কে

এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে আফগানিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিলো বাংলাদেশ। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে ৫ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা, উপহার দেয় এক অবিস্মরণীয় ক্রিকেটীয় মুহূর্ত। এই শ্বাসরুদ্ধকর জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন পালক যোগ করলো, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন উজ্জ্বল থাকবে।

আফগানদের ১৪৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর: বোলারদের দাপট

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান সংগ্রহ করে। ইব্রাহিম জাদরানের ৩৮ (৩৭ বল, ৩টি চার, ১টি ছক্কা) রানের ইনিংস দলকে মজবুত ভিত্তি দেয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ ৩০ (২২ বল, ১টি চার, ২টি ছক্কা) এবং সেদিউল্লাহ আতাল ২৩ (১৯ বল, ১টি চার, ২টি ছক্কা)। শেষদিকে মোহাম্মদ নবীর অপরাজিত ২০ (১২ বল, ২টি চার, ১টি ছক্কা) এবং আজমাতুল্লাহ ওমরজাইয়ের অপরাজিত ১৯ (১৭ বল, ১টি ছক্কা) রান আফগানিস্তানকে একটি লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়, যা টাইগারদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট শিকার করে আফগান ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত হানেন। শরীফুল ইসলাম ১টি উইকেট নিয়ে তাদের রান তোলার গতি কিছুটা শ্লথ করেন।

বাংলাদেশের নার্ভাস ফিনিশিং ও নুরুল-শরিফুলের ম্যাজিক

১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল কিছুটা নড়বড়ে। ওপেনার তানজিদ হাসান (২) এবং পারভেজ হোসেন ইমন (২) দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন, যা সমর্থকদের মনে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ সৃষ্টি করে। সাইফ হাসান ১৮ রান করে আউট হলে চাপ আরও বাড়ে। তবে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক জাকের আলী, যিনি ২৫ বলে ৩২ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে (২টি চার, ২টি ছক্কা) দলকে কক্ষপথে ফেরান।

শামিম হোসেনও তার মারকুটে ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং ২২ বলে ৩৩ রান করেন (৩টি চার, ২টি ছক্কা)। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান। ২১ বলে ৩টি ছক্কা ও ১টি চারের সাহায্যে তার অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখায়। শেষদিকে শরিফুল ইসলামের ৬ বলে অপরাজিত ১১ রান (২টি চার) নিশ্চিত করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, যা সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসায়।

আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে আজমাতুল্লাহ ওমরজাই ৪টি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামানোর চেষ্টা করেন। রশিদ খান ২টি এবং মুজিব উর রহমান ও নুর আহমদ ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

সিরিজ জয় ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান টাইগাররা

এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিলো, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে অনেকখানি বাড়িয়ে দেবে। এই সিরিজ জয় ভবিষ্যতে আরও ভালো পারফর্ম করার জন্য টাইগারদের অনুপ্রাণিত করবে। বিশেষ করে নুরুল হাসান এবং শরীফুল ইসলামের শেষ মুহূর্তের ব্যাটিং পারফরম্যান্স দলের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে, যা আসন্ন ম্যাচগুলোতে দলের জন্য বড় ভরসা যোগাবে। আফগানিস্তান দলও তাদের লড়াই চালিয়ে গেছে, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ বিনোদনমূলক ম্যাচ উপহার দিয়েছে।

আব্দুর রহিম/

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত