ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শোক সংবাদ: মারা গেলেন মুফতি আহমদুল্লাহ

২০২৫ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৬:৪৪:০৫

শোক সংবাদ: মারা গেলেন মুফতি আহমদুল্লাহ

দেশের ইসলামি অঙ্গন এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হলো। প্রবীণ আলেম, বর্ষীয়ান মুহাদ্দিস এবং শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আহমদুল্লাহ আজ (রোববার) সকালে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৮১ বছর বয়সী এই জ্ঞানতাপস চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মরহুমের জানাজার নামাজ আজ রাত ৯টায় চট্টগ্রামের পটিয়া আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি তাঁর স্ত্রী ছাড়াও তিন ছেলে, চার মেয়ে, অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

১৯৪১ সালের ১ মে চট্টগ্রামের পটিয়া থানার নাইখাইন গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মুফতি আহমদুল্লাহ। তাঁর পিতা ছিলেন মাওলানা ঈসা (রহ.) এবং মাতা ছিলেন জিরি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আহমদ হাসান (রহ.)-এর কন্যা। মাত্র ১০ বছর বয়সেই তিনি পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করেন।

জিরি মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিসে প্রতিটি শ্রেণিতেই প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানের জামিয়া আশরাফিয়া, লাহোরে গমন করেন। সেখানে মাওলানা ইদরিস কান্ধলভি ও মাওলানা রসুল খানের মতো শীর্ষ আলেমদের সান্নিধ্যে আসেন এবং পুনরায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন।

শিক্ষকতা ও আধ্যাত্মিক দীক্ষা

১৯৬৭ সালে দারুল উলুম করাচিতে ইফতা বিভাগে ভর্তি হয়ে মুফতিয়ে আজম পাকিস্তান আল্লামা মুহাম্মদ শফি উসমানির (রহ.) কাছ থেকে গভীর ফিকহি জ্ঞান অর্জন করেন। দেশে ফিরে ১৯৬৮ সালে জিরি মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং টানা ২৩ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষাদান করেন।

১৯৯১ সালে তিনি পটিয়া মাদরাসায় যোগ দেন এবং ২০২২ সাল পর্যন্ত শায়খুল হাদিস ও প্রধান মুফতির দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবেও তিনি খ্যাতিমান ছিলেন। ১৯৮১ সালে হাফেজ্জি হুজুর (রহ.)-এর কাছ থেকে তাসাউফে ইজাজত ও খেলাফত লাভ করেন।

রচনা ও অবদান

ইসলামি জ্ঞানচর্চায় তার অমূল্য রচনার মধ্যে রয়েছে— দাফউল ইলতিবাস, মাশায়েখে চাটগাম (দুই খণ্ড), আন-নাফহাতুল আহমাদিয়্যাহ ফিল খুতুবাতিল মিম্বারিয়্যাহ, তাজকেরাতুন নুর, তাসকিনুল খাওয়াতির, ইসলামের দৃষ্টিতে শেয়ারবাজার ও মাল্টিলেভেল মার্কেটিং, যুগোপযোগী দশ মাসায়েল এবং মাজহাব ও মাজহাবের প্রয়োজনীয়তা।

তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী চিন্তাবিদ, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব এবং বাস্তবভিত্তিক ইসলামি আলোচনার উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। তাঁর মৃত্যু দেশের ইসলামি সমাজ ও জ্ঞানচর্চায় এক বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ