ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জমির নামজারি এখন ৩ ধাপে! অনলাইনে ঘরে বসেই হবে মালিকানা পরিবর্তন

২০২৫ সেপ্টেম্বর ১২ ১১:৩৮:৩৮

জমির নামজারি এখন ৩ ধাপে! অনলাইনে ঘরে বসেই হবে মালিকানা পরিবর্তন

ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতাকে অতীত করে, ভূমি মন্ত্রণালয় নিয়ে এসেছে এক আধুনিক ও সরল অনলাইন নামজারি পদ্ধতি। এখন থেকে ভূমি সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি মাত্র তিনটি সহজ ধাপে ঘরে বসেই সম্পন্ন করা যাবে – নামজারি, মিউটেশন এবং খাজনা খারিজ। মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই উন্নত সেবা পেতে কোনো দালাল চক্রের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন নেই বা সরকারি দপ্তরে ঘুরে সময় নষ্ট করতে হবে না।

নামজারির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

নামজারি হলো একটি অত্যাবশ্যকীয় আইনি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জমির মালিকানা পূর্বতন মালিকের কাছ থেকে নতুন মালিকের নামে সরকারিভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে জমি নিয়ে আইনি বিরোধে জড়ানো বা জালিয়াতির শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। নিজের সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষিত রাখতে নামজারি অপরিহার্য।

অনলাইনে নামজারি করার তিনটি কার্যকর পদ্ধতি:

১. যৌথ মালিকানা (জমা ভাগ না করেই):

যদি ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের মধ্যে কোনো আপোষ বণ্টন না হয়, তবে এই পদ্ধতিটি প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ কায়েম সনদ, জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র অনলাইনে জমা দিয়ে সকলে মিলে যৌথভাবে নামজারির আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে, প্রতিটি ওয়ারিশ তার প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী মালিকানা লাভ করবেন।

২. একক মালিকানা (জমা ভাগ করে):

যেখানে ওয়ারিশগণ নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে নিতে সম্মত হন, সেখানে আপোষ বণ্টননামা দলিল করে তাদের স্ব স্ব অংশ সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। এই দলিলের ভিত্তিতে প্রত্যেকে তার নিজ নিজ অংশের জন্য পৃথকভাবে একক মালিকানার নামজারি করতে পারবেন।

৩. স্বয়ংক্রিয় নামজারি (বিপ্লবী অটোমেটেড সিস্টেম):

ভূমি মন্ত্রণালয় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেশের ২১টি উপজেলায় স্বয়ংক্রিয় নামজারি ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল রেজিস্ট্রির পরপরই সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সহকারী ভূমি কর্মকর্তার (এসিল্যান্ড) কার্যালয়ে পৌঁছে যাবে। ফলস্বরূপ, নতুন মালিকের নামে আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি সম্পন্ন হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে এই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাটি দেশের সকল উপজেলায় চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতারণা এড়াতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা:

ভূমি মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো মধ্যস্থতাকারীর (দালাল) প্রয়োজন নেই। তাই, যে কোনো ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে, সরাসরি www.land.gov.bd ওয়েবসাইটে অথবা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইনে আবেদন করার জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ