ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মালয়েশিয়ার ওয়ার্ক ভিসা: কী, কীভাবে আবেদন করবেন

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ২৬ ১৯:৫২:২৭

মালয়েশিয়ার ওয়ার্ক ভিসা: কী, কীভাবে আবেদন করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মালয়েশিয়ার ওয়ার্ক ভিসা বা কর্মী ভিসা হলো এমন একটি ভিসা, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বৈধভাবে দেশটিতে কাজ ও বসবাসের অনুমতি দেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি “ভিসা উইথ রেফারেন্স (VDR)” নামে পরিচিত।

এই ভিসা তখনই দেওয়া হয়, যখন মালয়েশিয়ার অনুমোদিত নিয়োগদাতা বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করে। পরে সেই অনুমোদনের ভিত্তিতেই কর্মী বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনে আবেদন করতে পারেন।

মালয়েশিয়ার ওয়ার্ক ভিসার মূল বৈশিষ্ট্য

শুধুমাত্র কর্মসংস্থানের জন্য বৈধ, ভ্রমণ বা সামাজিক সফরের জন্য নয়।

ভিসার মেয়াদ চাকরির চুক্তির মেয়াদের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিএমইটি অনুমোদিত মেডিকেল পরীক্ষা ও ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক।

এই ভিসা ছাড়া কাজ করা অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে১. নিয়োগদাতার অনুমোদন

প্রথমে মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতা ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি নেন।

২. ভিসা অনুমোদনপত্র (VDR Approval Letter)

অনুমোদন পাওয়ার পর কর্মীর নামে একটি VDR অ্যাপ্রুভাল লেটার ইস্যু হয়। এটি ছাড়া ভিসার আবেদন সম্ভব নয়।

৩. বাংলাদেশে ভিসা আবেদন

ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ১৮ মাস মেয়াদ থাকতে হবে)

পাসপোর্টের ফটোকপি

পূর্ণাঙ্গ ভিসা আবেদন ফর্ম

দুই কপি ছবি

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের অনুমোদনপত্র

৪. মেডিকেল পরীক্ষা

বিএমইটি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে মেডিকেল ফিট সার্টিফিকেট নিতে হবে।

৫. বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ক্লিয়ারেন্স এবং স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

৬. ভিসা ইস্যু

সব কাগজপত্র যাচাইয়ের পর ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশন থেকে ওয়ার্ক ভিসা ইস্যু হয়। ভিসা হাতে পেলেই কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে বৈধভাবে কাজ শুরু করতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি

ট্যুরিস্ট ভিসা বা সামাজিক সফরের ভিসা নিয়ে গিয়ে কাজ করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

কেবল অনুমোদিত এজেন্সি বা বৈধ নিয়োগদাতার মাধ্যমে যাওয়া নিরাপদ।

ভিসার মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন করতে হয়, এ সময় পুনরায় মেডিকেল চেকআপও প্রয়োজন।

ভিসা চেক

ভিসার স্ট্যাটাস জানতে ভিজিট করুন:???? eservices.imi.gov.my/myimms/PRAStatus

সতর্কতা

দালাল বা অননুমোদিত এজেন্সি এড়িয়ে চলুন।

সব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করুন, নতুবা আবেদন বাতিল হতে পারে।

ভ্রমণের ১-২ মাস আগে আবেদন করলে প্রক্রিয়া সহজ হয়।

যোগাযোগ

মালয়েশিয়ার হাইকমিশন (ঢাকা): [email protected]

বিএমইটি ওয়েবসাইট: www.bmet.gov.bd

আমি প্রবাসী অ্যাপ থেকেও সরাসরি তথ্য পাওয়া যাবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত