ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ফিরল বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ০১ ১৫:৪২:৫০

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ফিরল বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর নিয়ে এল মালয়েশিয়া। দীর্ঘদিন পর আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলো। মালয়েশিয়ার সরকার নতুন করে বাংলাদেশ ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মীদের কনস্ট্রাকশন ও ট্যুরিজম খাতে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে।

পুরনো তালিকা থেকে নতুন নিয়োগবিশেষ করে ২০২৩ সালের ৩১ মে’র মধ্যে যারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি, তাদের মধ্য থেকেই উপযুক্ত কর্মীদের নির্বাচন করে এবার নিয়োগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের কুয়ালালামপুর শাখা ১ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) সত্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

জমা দিতে হবে নির্ধারিত কাগজপত্রমালয়েশিয়ার FWCMS (Foreign Workers Centralized Management System) পোর্টালে নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য জমা দিতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

কোম্পানির অনুমোদনপত্র

বেতন কাঠামোর বিবরণ (Salary Slip)

কোম্পানির প্রোফাইল ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট

নির্ধারিত ব্যালান্স সংক্রান্ত তথ্য

আবাসন ছাড়পত্র

হাসপাতাল ও মেডিকেল বিমা সংক্রান্ত দলিল

নিয়োগপত্র ও বোয়েসেল-নিয়োগকারীর চুক্তিপত্র

মালয়েশিয়ার শ্রম কোটা অনুমোদনপত্র

চূড়ান্তভাবে অনলাইনে দাখিলের পর মূল কপি ও একটি ফটোকপি বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

'সিলেক্টিভ রিক্রুটমেন্ট' মডেল ও দালালমুক্ত প্রক্রিয়ার অঙ্গীকারবাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত ‘সিলেক্টিভ রিক্রুটমেন্ট’ মডেল অনুযায়ী শুধুমাত্র অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমেই কর্মী পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে খরচ নির্ধারণ, ভিসা ও মেডিকেল প্রসেসিং সময় নির্ধারণ, কোম্পানির যাচাই এবং দালালমুক্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আগের অনিয়ম রোধে এবার নজরদারিদুই দেশের মধ্যে সদ্য অনুষ্ঠিত বৈঠকে কর্মী শোষণের অভিযোগ তদন্ত বন্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের মতো অনিয়ম যেন না ঘটে, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ৫ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কোটা বাণিজ্য ও দুর্নীতির কারণে প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যায়। এবার নতুন নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সবার দৃষ্টি এখন সরকারের করণীয়ের দিকে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত