ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের জন্য বড় দু:সংবাদ

২০২৬ জুলাই ১৫ ২৩:১৩:৫৫

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের জন্য বড় দু:সংবাদ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল। এই হাইভোল্টেজ লড়াই পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ রেফারি ইসমাইল এলফাত। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের এই মহারণে রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্তও থাকবে তীক্ষ্ণ নজরে।

৪৪ বছর বয়সী ইসমাইল এলফাত চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান, স্পেন বনাম উরুগুয়ে এবং নরওয়ে বনাম ব্রাজিলের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে তিনি আলোচনায় এসেছেন। এই তিন ম্যাচে তিনি মোট ৯টি কার্ড দেখিয়েছেন, যার মধ্যে ৮টি হলুদ এবং ১টি সরাসরি লাল কার্ড।

একমাত্র লাল কার্ডটি দেখানো হয়েছিল উরুগুয়ের অগুস্তিন কানোবিওকে। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে পাউ কুবার্সির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। সেই ম্যাচে আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইনিয়াকি উইলিয়ামসের ওপর রদ্রিগো বেনতানকুরের ফাউলের ঘটনায় কেবল হলুদ কার্ড দেখানোয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে সমালোচনা হয়।

নরওয়ে ও ব্রাজিলের ম্যাচেও ভিএআরের সহায়তায় নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছিল এলফাতকে। ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড মাথেউস কুনিয়া পেনাল্টি বক্সে ফাউলের শিকার হলেও প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন তিনি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। যদিও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল।

আর্জেন্টিনার সঙ্গে এলফাতের পরিচয় নতুন নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালের লিগস কাপ ফাইনালেও দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ইন্টার মায়ামি প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছিল।

মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় জন্ম নেওয়া ইসমাইল এলফাত ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। শুরুতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করলেও পরবর্তীতে রেফারিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় রয়েছেন এবং মেজর লিগ সকার (এমএলএস)-এ দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্বকাপ ছাড়াও কোপা আমেরিকা, কনকাকাফ গোল্ড কাপ, অলিম্পিক গেমস, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। কাতার বিশ্বকাপের পর এটি তার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আসর।

এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে এলফাতকে সহায়তা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী রেফারি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিন্স। চতুর্থ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই বরাবরই ইতিহাস, আবেগ এবং বিতর্কে ঘেরা। তাই এই ম্যাচে শুধু দুই দলের তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নয়, রেফারি ইসমাইল এলফাতের প্রতিটি সিদ্ধান্তও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত