ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

আর্জেন্টিনায় মুসলিমদের সংখ্যা সত্যিই অবিশ্বাস্য, গড়ে উঠেছে শক্তিশালী ইসলামি সম্প্রদায়

২০২৬ জুলাই ০৯ ০৯:৪২:৫৩

আর্জেন্টিনায় মুসলিমদের সংখ্যা সত্যিই অবিশ্বাস্য, গড়ে উঠেছে শক্তিশালী ইসলামি সম্প্রদায়

দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী দেশ আর্জেন্টিনা বিশ্বজুড়ে পরিচিত মূলত ফুটবল, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য। তবে অনেকেরই অজানা, লাতিন আমেরিকায় অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীরও আবাস এই দেশ। দীর্ঘ অভিবাসনের ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন ইসলামি প্রতিষ্ঠানের বিকাশের মাধ্যমে আর্জেন্টিনায় গড়ে উঠেছে একটি সুসংগঠিত মুসলিম সমাজ।

কত মুসলিম বাস করেন আর্জেন্টিনায়?

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান The Association of Religion Data Archives (ARDA)-এর তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনায় বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ মুসলিম বসবাস করেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার এক শতাংশেরও বেশি। এই সংখ্যার দিক থেকে আর্জেন্টিনা লাতিন আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আর্জেন্টিনায় ইসলামের আগমন যেভাবে

ইতিহাসবিদদের মতে, আর্জেন্টিনায় ইসলামের পরিচয় শুরু হয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে। স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের সঙ্গে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ‘মুরিশ’ ও ‘মরিস্কো’ মুসলিমদের একটি অংশ দক্ষিণ আমেরিকায় আসে এবং আর্জেন্টিনার বিভিন্ন অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।

পরবর্তীতে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমান। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন মুসলিম। এই অভিবাসীদের মাধ্যমেই দেশটিতে ইসলামি সমাজ আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

ইসলামি প্রতিষ্ঠানের বিকাশ

আর্জেন্টিনায় ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ শুরু হয় আশির দশকে। ১৯৮৩ সালে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে প্রতিষ্ঠিত হয় আত-তাওহিদ মসজিদ, যা দেশটির প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত।

এরপর ১৯৮৫ সালে নির্মিত হয় আল-আহমদ মসজিদ, যা ইসলামি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত আর্জেন্টিনার প্রথম মসজিদ।

১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয় কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার। এটি দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় ইসলামিক কমপ্লেক্সগুলোর একটি। এখানে রয়েছে সুবিশাল মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, গ্রন্থাগার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং উন্মুক্ত পার্ক।

বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজ নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নতুন প্রজন্মের অধিকাংশই স্প্যানিশ ভাষাভাষী হওয়ায় আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে তাদের সংযোগ আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া স্প্যানিশ ভাষায় নির্ভরযোগ্য ইসলামি বই ও গবেষণাসামগ্রীর স্বল্পতা, ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক গণমাধ্যম উপস্থাপনার অভাব এবং আধুনিক সমাজের সাংস্কৃতিক প্রভাব মুসলিম পরিচয় ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

আশার বার্তা

সব চ্যালেঞ্জের পরও আর্জেন্টিনার মুসলিম সম্প্রদায় তাদের শত বছরের ঐতিহ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা, দাওয়াহ কার্যক্রম এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে এই সম্প্রদায় আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ

আর্জেন্টিনায় মুসলিমদের সংখ্যা সত্যিই অবিশ্বাস্য, গড়ে উঠেছে শক্তিশালী ইসলামি সম্প্রদায়

আর্জেন্টিনায় মুসলিমদের সংখ্যা সত্যিই অবিশ্বাস্য, গড়ে উঠেছে শক্তিশালী ইসলামি সম্প্রদায়

দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী দেশ আর্জেন্টিনা বিশ্বজুড়ে পরিচিত মূলত ফুটবল, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য। তবে অনেকেরই অজানা, লাতিন... বিস্তারিত