ঢাকা, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা

২০২৬ জুন ২২ ১৯:০৩:১৮

৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা

সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারকে ঘিরে ঘটেছে এক নজিরবিহীন ঘটনা। প্রায় সাত শতকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের দানের বড় তিনটি ডেগ খুলে আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।

জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সিলগালা করা ডেগগুলোর মুখ খোলা হয় এবং গণনা কাজে অংশ নেন শাহজালাল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। পুরো প্রক্রিয়াটি জনসম্মুখে পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মাজারের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম দানের অর্থ প্রকাশ্য পরিবেশে গণনা করা হচ্ছে। অতীতে এমন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বা সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ ছাড়া সম্পন্ন হতো।

সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সিলেটের সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকে এটিকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।

এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর সিলেটে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠন তাকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে।

দান গণনার পুরো কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণনা শেষে দানবাক্সে জমা হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থ সংরক্ষণ, হিসাবরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিলেটের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এই উদ্যোগকে অনেকেই একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ