ঢাকা, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপের মাঝেই ড্রেসিংরুমে আবেগঘন চিঠি রেখে চলে গেল ইরান

২০২৬ জুন ২২ ১৮:২৮:৫১

বিশ্বকাপের মাঝেই ড্রেসিংরুমে আবেগঘন চিঠি রেখে চলে গেল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার মানবতা, শান্তি ও সংহতির বার্তা দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে টিম মেল্লি।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শেষে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা চিঠি রেখে যান ইরানি ফুটবলাররা। ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও সেই বার্তা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

চিঠিতে ইরানি ফুটবলাররা নিজেদের হাজার বছরের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন। তারা লিখেছেন, “প্রাচীন পারস্য থেকে আধুনিক ইরান—আমাদের আত্মা আজও শক্তিশালী, জীবন্ত এবং অটুট।”

লস অ্যাঞ্জেলেসের মানুষদের আতিথেয়তার জন্য বিশেষ ধন্যবাদও জানিয়েছে দলটি। আবেগঘন বার্তায় তারা উল্লেখ করেছে, “আমরা গর্ব নিয়ে এখানে এসেছি, সম্মানের সঙ্গে লড়াই করেছি এবং মর্যাদা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।”

শুধু আয়োজক শহর নয়, বিশ্বজুড়ে থাকা ইরানি সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফুটবলাররা। তারা বলেছেন, বিশ্বকাপে প্রতিটি মুহূর্তে যারা দলকে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই ছিল সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

চিঠির শেষ অংশে ফুটবলাররা বিশ্ববাসীর উদ্দেশে এক মানবিক আহ্বান জানান। সেখানে লেখা ছিল, “সকল দেশের মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক।” এই সংক্ষিপ্ত বার্তাই মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে।

চিঠিতে ব্যবহৃত #168 এবং #Minab হ্যাশট্যাগও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের মিনাব অঞ্চলে সংঘটিত সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। ফুটবলাররা সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য না দিলেও শান্তি ও মানবিকতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

চলতি বিশ্বকাপে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ইরান। ভ্রমণ ও অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে দলটিকে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে অ্যারিজোনার পরিবর্তে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিজেদের বেস ক্যাম্প স্থাপন করেছে তারা। সেখান থেকেই ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করছে পুরো দল।

সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মাঠে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবতার বার্তা পৌঁছে দিয়ে তারা নতুন এক উদাহরণও তৈরি করেছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ