ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
বজ্রপাত নিয়ে যে ১০ তথ্য জানা জরুরি, না জানলে বাড়তে পারে প্রাণহানির ঝুঁকি
মো : মারুফ হোসেন
সিনিয়র রিপোর্টার
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে বিভিন্ন জেলায় বহু প্রাণহানির খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বজ্রপাত সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা এবং সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
বজ্রপাত মূলত একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক বৈদ্যুতিক ঘটনা, যা পৃথিবীর প্রায় সব জায়গাতেই ঘটে। প্রতি মিনিটে হাজার হাজার বজ্রপাত হয় বিশ্বজুড়ে। তবে অনেকেই জানেন না, বজ্রপাতের শিকার হলেও প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বেঁচে যেতে পারেন যদি দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বজ্রপাত সৃষ্টির পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করে—বাতাসের আর্দ্রতা, অস্থিতিশীল বায়ু এবং ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ। উষ্ণ আর্দ্র বাতাস উপরে উঠে ঠাণ্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে বজ্রমেঘ তৈরি করে। মেঘের ভেতরে বরফ ও পানির কণার সংঘর্ষে বৈদ্যুতিক চার্জ জমা হয় এবং একসময় তা বজ্রপাত হিসেবে নির্গত হয়।
অনেক সময় বজ্রধ্বনি শোনা গেলেও বৃষ্টি দেখা যায় না, একে বলা হয় শুষ্ক বজ্রঝড়। এই ধরনের ঝড় দাবানলের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কারণ বৃষ্টি মাটিতে পৌঁছানোর আগেই বাষ্প হয়ে যায়।
কোনো ব্যক্তির ওপর বজ্রপাত হলে তা সরাসরি শরীরের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে, যা স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। এমনকি তাৎক্ষণিক মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে দ্রুত চিকিৎসা পেলে অনেক ক্ষেত্রেই জীবন বাঁচানো সম্ভব।
বজ্রপাত নিয়ে সমাজে কিছু কুসংস্কারও রয়েছে। যেমন, বজ্রপাতে মৃতদেহ চুম্বক হয়ে যায়—এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর পর মৃতদেহে কোনো ভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকে না।
বজ্রপাত থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতন থাকা। বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। খোলা মাঠ, উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে। বজ্রঝড়ের সময় ঘরের ভেতরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।
যদি খোলা জায়গায় আটকে পড়েন, তাহলে নিচু হয়ে বসে থাকা এবং শরীরের সংস্পর্শ কম রাখা কিছুটা নিরাপত্তা দিতে পারে। পানিতে বা নৌকায় থাকলে দ্রুত আশ্রয় নেওয়া জরুরি। আর ঘরের ভেতরে থাকলেও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকা উচিত।
বজ্রপাতে কেউ আহত হলে দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন সচল করার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
অনেকে মনে করেন, একই স্থানে একাধিকবার বজ্রপাত হয় না—এ ধারণাও ভুল। বাস্তবে একই জায়গায় বারবার বজ্রপাত হতে পারে।
বাংলাদেশে বজ্রপাতের হার বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ ভৌগলিক অবস্থান। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা উষ্ণ আর্দ্র বাতাস এবং উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আসা ঠাণ্ডা বাতাসের সংঘর্ষ বজ্রপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে বজ্রঝড়ের প্রবণতাও বেড়েছে।
সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতিই পারে বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি কমাতে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও কি গোল্ডেন বুটের হিসাবের মধ্যে পড়ে?
- গোল্ডেন গ্লাভসের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?
- ঝামেলা ছাড়াই মোবাইলে দেখুন আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে Live
- ১০ মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- 35 মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- অপটার ভবিষ্যবাণী : বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের আগেই চ্যাম্পিয়ন দলের নাম ঘোষণা
- সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস: ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারে যে দুই দল
- এইমাত্র পাওয়া : বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে নতুন ঘোষণা
- আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলে নিষিদ্ধ হতে পারেন মেসি
- ১০ মিনিটের খেলা শেষ,আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- 20মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- মোবাইলেনরওয়ে বনাম ইংল্যান্ডখেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে LIVE
- মিলছে কি বিশ্বকাপের ভবিষ্যদ্বাণী : চ্যাম্পিয়ন হবে যে দল
- ৪৩মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)
- দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু,আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)