ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

মদ্যপান শুধু পানকারীর গুনাহ নয়, যাদের অভিসম্পাত করেছেন নবী (সা.)

২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৬:২২:৩৯

মদ্যপান শুধু পানকারীর গুনাহ নয়, যাদের অভিসম্পাত করেছেন নবী (সা.)

ইসলাম কোনো সামাজিক অনাচারকে বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে না। বরং কোনো অপরাধের উৎস, বিস্তার ও প্রভাব—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করে। যে কাজ মানুষের বিবেক, পরিবার ও সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, সে ক্ষেত্রে ইসলাম শুধু সরাসরি অপরাধীকেই নয়; বরং সেই অপরাধকে টিকিয়ে রাখে এমন সব সহযোগী ভূমিকাকেও কঠোরভাবে চিহ্নিত করেছে। মদ ও মাদক বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অবস্থান ইসলামের এই নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট উদাহরণ।

ইসলামের দৃষ্টিতে মদ্যপানের গুনাহ শুধু পানকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, পরিবহন, বিক্রি ও পরিবেশন—পুরো প্রক্রিয়াই একটি সমন্বিত অপরাধ। কারণ এই শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপ মানুষের বিবেক, নৈতিকতা ও সামাজিক ভারসাম্য ধ্বংসে ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত দশ শ্রেণির ব্যক্তিকে তিনি অভিসম্পাত করেছেন। তারা হলেন—১. মদ প্রস্তুতকারী,২. মদ প্রস্তুতের ফরমায়েশদাতা,৩. মদ পানকারী,৪. মদ বহনকারী,৫. যার কাছে মদ বহন করা হয় বা সংরক্ষণ করা হয়,৬. মদ পরিবেশনকারী,৭. মদ বিক্রেতা,৮. মদের মূল্য ভোগকারী,৯. মদ ক্রয়কারী,১০. যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়।(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২৯৫)

এই হাদিসের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মদ্যপান কোনো একক ব্যক্তির সীমাবদ্ধ গুনাহ নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অপরাধচক্র। উৎপাদক থেকে ভোক্তা—এই শৃঙ্খলে যুক্ত প্রত্যেকেই গুনাহের অংশীদার।

ইসলামের এই দৃষ্টিভঙ্গি সমাজকে শিক্ষা দেয়, কোনো অনাচার নির্মূল করতে হলে শুধু ব্যক্তি শাস্তি যথেষ্ট নয়; বরং অপরাধের পেছনের পুরো কাঠামো ভেঙে ফেলাই জরুরি। অন্যথায় ব্যক্তি শাস্তি পেলেও অপরাধ থেকে যায় এবং সমাজ ধ্বংসের পথেই এগিয়ে চলে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত