ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিসিবি ও আইসিসির ভার্চুয়াল কল, কী সিদ্ধান্ত ভারতের খেলার বিষয়ে

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ০৯:২৯:২৫

বিসিবি ও আইসিসির ভার্চুয়াল কল, কী সিদ্ধান্ত ভারতের খেলার বিষয়ে

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে বাদ দেওয়ার পর থেকেই ভারত সফর নিয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই প্রেক্ষাপটে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না চাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) জানায় বিসিবি।

বাংলাদেশের দাবি ছিল—নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। শুরুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছিল, আইসিসি বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করছে। কিন্তু সর্বশেষ বিসিবি ও আইসিসির মধ্যকার ভার্চুয়াল বৈঠকের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ভার্চুয়াল কলে কী কথা হয়েছে?

মঙ্গলবার বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

ক্রিকেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইসিসি নাকি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিসি বিসিবিকে জানিয়েছে—বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে, নচেৎ ম্যাচ না খেললে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে।

তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে বিসিবি। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইসিসি তাদের কোনো ধরনের আল্টিমেটাম বা চূড়ান্ত হুমকি দেয়নি। বিষয়টি এখনও আলোচনার মধ্যেই রয়েছে।

কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নেই

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরও বিসিবি, আইসিসি কিংবা বিসিসিআই—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে বৈঠকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার বিসিবি একটি চিঠির মাধ্যমে আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল, যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের বিষয়টি ‘বিবেচনা’ করা হয়। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই এই ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বকাপ সূচি ও বাংলাদেশের ম্যাচ

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি, শেষ হবে ৮ মার্চ।

বাংলাদেশ রয়েছে সি গ্রুপে। সূচি অনুযায়ী—

৭ ফেব্রুয়ারি: ওয়েস্ট ইন্ডিজ – কলকাতা

৯ ফেব্রুয়ারি: ইতালি – কলকাতা

১৪ ফেব্রুয়ারি: ইংল্যান্ড – কলকাতা

১৭ ফেব্রুয়ারি: নেপাল – মুম্বাই

অর্থাৎ গ্রুপপর্বের বেশিরভাগ ম্যাচই ভারতের মাটিতে।

মুস্তাফিজ ইস্যু থেকেই সংকটের সূত্রপাত

এই পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়া। ভারতের কিছু হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার খেলানোর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে।

এরই মধ্যে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেয়। কিন্তু চাপের মুখে বিসিসিআই তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে কলকাতাকে নির্দেশ দেয়।

বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমে নিশ্চিত করলেও, কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। এমনকি জানা গেছে, আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে, যা আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সামনে কী?

একদিকে বিশ্বকাপের সময় ঘনিয়ে আসছে, অন্যদিকে বিসিবি-আইসিসির অবস্থান পরিষ্কার নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যাবে নাকি বিকল্প ভেন্যু পাওয়া যাবে—সে সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত।

এই পরিস্থিতি শুধু ক্রিকেট নয়, দুই দেশের ক্রীড়াকূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত