ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইতিহাস গড়লেন মোস্তাফিজ, পুরোনো ফিনিশার রূপে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ

২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ০৮:৫৯:১৮

ইতিহাস গড়লেন মোস্তাফিজ, পুরোনো ফিনিশার রূপে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সময়টা যেন ঠিকই মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে কথা বলছে। আইপিএলের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সে দলবদলের পর আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন বাঁহাতি এই পেসার। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের ক্লাবে নাম লেখালেন মোস্তাফিজ। একই ম্যাচে ব্যাট হাতে পুরোনো চেনা ফিনিশার রূপে ধরা দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

৪০০ উইকেটের ঐতিহাসিক মাইলফলক

আইএল টি–টোয়েন্টিতে ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে আগেই আলোচনায় ছিলেন মোস্তাফিজ। বিপিএলের দ্বাদশ আসরে নামার সময় তিনি ছিলেন মাইলস্টোন থেকে মাত্র চার উইকেট দূরে। প্রথম দুই ম্যাচে তিন উইকেট নেওয়ার পর সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ম্যাচেই ইতিহাস গড়লেন।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে আইসিসি স্বীকৃত টি–টোয়েন্টিতে ৪০০ উইকেট পূর্ণ করেন মোস্তাফিজ—সাকিব আল হাসানের (৫০৭ উইকেট) পরই তার অবস্থান। মাত্র ৩১৫ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন তিনি।

নিজের দ্বিতীয় বলেই মিরাজকে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচে পরিণত করে মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন ‘কাটার মাস্টার’।

মাইলস্টোন ম্যাচেই দুর্দান্ত স্পেল

ইতিহাসের ম্যাচে মোস্তাফিজের বোলিং ছিল আরও ঝলমলে—৪ ওভার, ২৪ রান, ৩ উইকেট

তার স্পেলগুলো ছিল—

১–০–৪–১

১–০–৬–০

২–০–১৪–২

শেষ স্পেলে আফিফ হোসেন ও খালেদ আহমেদকে ফিরিয়ে সিলেটের বড় স্কোরের স্বপ্ন ভেঙে দেন তিনি।

ফাহিম–মোস্তাফিজের তাণ্ডবে থামল সিলেট

শেষ পাওয়ারপ্লেতে মোস্তাফিজ ও পাকিস্তানি পেসার ফাহিম আশরাফের যুগল আঘাতে সিলেট টাইটান্স হারায় ৪ উইকেট, মাত্র ৩৬ রানে। যেখানে সিলেটের স্কোর ১৬০ ছাড়ানোর কথা ছিল, সেখানে তারা থামে ১৪৪/৮-এ।

ডট বলের লড়াইয়েও এগিয়ে ছিলেন মোস্তাফিজ—২৪ বলের মধ্যে ১৪টিই ডট।

চেনা রূপে মাহমুদউল্লাহ, ম্যাচ জয়ের ফিনিশ

মাইলস্টোন ম্যাচে মোস্তাফিজের পাশে দাঁড়িয়ে আরেক নায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বিপিএলের নিলামে অবিক্রিত থাকা এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে মাত্র ৩৫ লাখ টাকায় দলে নেয় রংপুর রাইডার্স।

রাজশাহীর বিপক্ষে আগের ম্যাচে হতাশাজনক রানআউটের পর দায়িত্ববোধ থেকেই যেন জ্বলে ওঠেন তিনি। কাইল মায়ার্স ফিরে যাওয়ার পর শেষ ৩০ বলে ৪৯ রানের চাপ—কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ছিলেন অবিচল।

১৬তম ওভারে মিরাজকে একাই ৩ চার ও ১ ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ সহজ করে দেন।

শেষ পর্যন্ত ১৬ বলে ৩৪ (৫ চার, ১ ছক্কা)* ৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয়

খুশদিল শাহের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন জুটি ছিল ২৪ বলে ৫০ রান।

ম্যাচের নায়ক কে?

লিটন দাসের (২৫ বলে ৩৫) ঝলমলে ইনিংস, মোস্তাফিজের ঐতিহাসিক বোলিং—সব ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ উইনার ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে ম্যাচটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে মোস্তাফিজের ৪০০ উইকেটের কারণে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ